
X
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় গড়াডোবা ইউনিয়নে হাসিনা-সাহিদ মাধ্যমিক মডেল একাডেমীর মেইন টিন শেড ঘর আকস্মিক ঝড়ে লন্ডভন্ড হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে চলছে স্কুলের ক্লাস।
সরেজমিনে গত বুধবার (৮ মে) সকালে স্কুল গেলে এরকম চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।
ঘুর্নিঝড়ের খবর পেয়ে গত সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান, স্থানীয় গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান খান সোহাগকে সাথে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন।
মুটোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের বরাদ্দ থেকে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরিভাবে একাডেমিক ঘর মেরামতের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ৫ বান্ডিল টিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থ বছরে টি আরসহ অন্যান্য অনুদানেরও চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
খোলা আকাশের নিচে স্কুলের ক্লাস চলছে এরকম প্রশ্ন করলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.সাইফুল আলম জানান, ইউএনও স্যার পরিদর্শন করেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইউএনও স্যারই গ্রহণ করবেন।
গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান সোহাগ বলেন, এই কেন্দুয়া উপজেলায় এমনও বিদ্যালয় আছে যেখানে ৩/৪টি পাকা ভবন নির্মিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হাসিনা- সাহিদ মাধ্যমিক মডেল একাডেমীতে সরকারের একটি পাকা ভবনও নেই। তিনি এই একাডেমীতে ৪তলা বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন বরাদ্দের জন্য সকল ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানান।
এব্যাপারে হাসিনা শাহিদ মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক এমএ সালামের সাথে কথা হলে তিনি জানান,গত রোববার রাতের ঘূর্নিঝড়ে প্রতিষ্ঠানটির ৫টি টিনশেড ঘরের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে ঘরটি তা লন্ড ভন্ড করে ফেলেছে,বাকি ঘর গুলো ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে । স্কুলের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক করতে এবং ক্লাসে জায়গার সংকট থাকায় এখন ৯ম এবং ১০ম শ্রেণির ক্লাস আমরা খোলা আকাশের নীচে নিচ্ছি। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে ৫ বান্ডিল টিন দেওয়া হয়েছে। যতদ্রুত সময়ে আমরা ঘূর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিনশেড মেরাতর করে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে করতে পারব বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান, পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে আমরা জমি দান করে মা-বাবার নামকরণ করে হাসিনা-সাহিদ মডেল একাডেমী স্থাপন করেছিলাম। এখন মাধ্যমিক মডেল একাডেমীতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে ১৪ জন শিক্ষক কর্মচারী ও ৩৭৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এবং উপস্থিতিও সন্তোষজনক। কিন্তু একাডেমিক পাকা ভবন না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ দান কার্যক্রম নিয়ে খুবই অসুবিধায় থাকতে হয়। তিনি সরকারের নিকট একটি ৪ তলা বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মানের দাবি জানান।
সরেজমিনে, ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মহিবুল্লাহর সাথে কথা হলে তিনি জানায়, আমাদের কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো যত দ্রুততম সময়ে মেরামতের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই। অন্যতায় পাঠদান চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য-কেন্দুয়া উপজেলার ৪নং গড়াডোবা ইউনিয়নের গাড়াউন্দ মাষ্টার বাড়ী প্রাঙ্গনে ২০১০ সালের ১জানুয়ারী স্থাপিত হয় হাসিনা সাহিদ- মডেল একাডেমী। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারী নবম ও দশম শ্রেণীর স্বাকৃতি পায়। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩ শতাধিক। শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ জন। গত বছর ২০২৩ সালে ৪৩ জন ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। শতভাগ পাশ করে। এর মধ্যে ৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। এ বছর ৫৮ জন ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফল হবে ১২ মে।