রাউজানে আ’লীগ চট্টগ্রামে বিএনপি : এবার সেই জালালের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

কামরুজ্জামান রনি, চট্টগ্রাম

সারাবাংলা

রাউজান উপজেলায় নিজেকে আওয়ামী লীগ পরিচয় দেয় মোঃ জালাল, অথচ চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের সহ-সস্পাদক পদে আছেন তিনি। ২০২৩

2024-05-10T21:05:03+00:00
2024-05-10T21:05:03+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
রাউজানে আ’লীগ চট্টগ্রামে বিএনপি : এবার সেই জালালের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা
কামরুজ্জামান রনি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ মে, ২০২৪, ৯:০৫ পিএম   (ভিজিট : ৯২৫)
X

রাউজান উপজেলায় নিজেকে আওয়ামী লীগ পরিচয় দেয় মোঃ জালাল, অথচ চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের সহ-সস্পাদক পদে আছেন তিনি। ২০২৩ সালে চট্টগ্রা নগরীতে তিনটি নাশকতা ও রাউজানের একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে। তবে ইতিমধ্যে সেই জালাল গরু ব্যবসার নামে অনেকের কাছে থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। একাধিক ভুক্তভোগী আদালতে এই সংক্রান্ত মামলাও করেছেন৷ অভিযোগ আছে ছাত্রদল নেতা জালালকে আওয়ামী লীগ বানাতে আর গরু ব্যবসার নামে বিভিন্ন অপকর্মে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে রাউজান কৃষক লীগের এক শীর্ষ নেতা। 

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১নং হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা তোতা গাজীর বাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ জালাল। এক সময় বসবাস করতেন চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায়৷ রাউজানের ছেলে হওয়ায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁড়ির দণ্ডে দণ্ডিত সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সাথে ছিল বেশ ঘনিষ্ঠতা। আর সেই সুবাদে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের কমিটি সহ-সম্পাদক পদও পেয়ে যান জালাল৷  গত ২০২৩ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম নগরীর জামাল খান এলাকায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সহ একাধিক স্থাপনার ভাংচ্যুর চালায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। সেদিনের সেই ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার ভুক্ত ১৮ নং আসামি হন মোঃ জালাল। পরবর্তীতে একই দিন একই মিছিল থেকে চট্টগ্রাম কলেজের সামনে নাশকতার মামলায় চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলাতে জালালকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ সর্বশেষ চলতি এপ্রিল মাসে এনায়েত বাজার এলাকায় আরেকটি নাশকতার ঘটনায় জালালের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়ে সেই মামলাতেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

২০২৩ সালের জুন মাসে নাশকতার ঘটনা সংঘটিত করেই রাউজানে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। সেখানে আগে থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিয়ে নিজেকে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন জালাল। বিশেষ করে রাউজান উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক সুমনের সাথে নিয়মিত সর্বত্র বিচরণ ছিল জালালের৷ সেই সুবাদে একাধিকবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার সুযোগ পেয়ে যান জালাল। এরপর থেকে নিজেকে "লীগ" নেতা পরিচয়ে নিজ ইউনিয়নে শুরু করেন গরুর ব্যবসা।  অল্প কিছুদিনের মধ্যে গরু বিক্রির কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের৷

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, বছর ১৫ মার্চ কোতয়ালি থানার নাশকতা মামলায় রাউজান থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেফতার হন জালাল। জালাল গ্রেফতারের খবরে আমি জালালের বাড়িতে যাই। সেসময় খামারে থাকা ৭টি গরু পাওনাদারেরা আমার হেফাজতে নিতে চাইলে বাঁধা দেন স্থানীয় আরেকদল গরু ব্যবসায়ী ও কতিপয় আওয়ামী লীগ নামধারীরা।  তাদের দাবি এসব গরুতে জালালের নয়, এসব গরুতে নাকি বিনিয়োগ আছে আলম, রফিক ও সুমনের। উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক সুমনের মতন প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতার কথা শুনে সেদিন জালালের খামার থেকে ফিরে আসি৷ ঠিক তার পরদিনই সব গুলো গরু জালালের খামার থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।"

শেষ পর্যন্ত নিজেদের অর্থের কোন কূলকিনারা করতে না পেরে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন রাউজানের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন ও ফটিকছড়ির বাসিন্দা মোকাররম হোসেন৷ নাসির উদ্দিন ও মোকাররক হোসেন উভয়ের অভিযোগ গরু ব্যবসার কথা বলে গত বছর কোরবানির ঈদের আগে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছিলেন জালাল৷ কিন্তু কোরবানির ঈদের পর লাভ তো দূরের কথা আসল টাকা চাইলে গেলে উলটো স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে জালাল। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে সেই গরু ব্যবসায়ী রফিককে প্রশ্ন করা হলে তারা জালাল গ্রেফতারের পর ৭টি গরুর নাসিরকে নিতে বাঁধা দেন বলে স্বীকার করেন৷ তবে রফিক বলেন, "গরুর শেডটি জালালের হলেও সব গরু আমাদেরই ছিল। তাই আমরা কাউকে গরু নিতে দেইনি৷" জালালের গরু ব্যবসায় কৃষক লীগ নেতা সুমনের সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রফিক বলেন, জালালের সাথে নয় আমার সাথেই সুমনের সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্কের সূত্রেই আমি সুমনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গরু ব্যবসায় বিনিয়োগ করি।" জালালের সেডে থাকা ৭টি গরু কিনতে সুমনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন বলে জানান রফিক।

রাউজান উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও জালালের সাথে ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে জিয়াউল হক সুমন বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, জালাল আমাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে আসতো এবং বিগত দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছে।" ২০২৩ সালের জুন মাসে যে ছেলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভাঙচুর করে সেই ছেলে কীভাবে আওয়ামী লীগের আদর্শের হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সুমন বলেন, "ঘটনাটি জানার পর আমরাও বিস্মিত হয়েছি।  যদি সে জড়িত থাকে তাহলে তার শাস্তি আমরাও চাই৷" জালালের সাথে নিজের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অস্বীকার করে সুমন বলেন," দলের অনুষ্ঠানে এলে আমার সাথে ছবি তুলতেই পারে। এছাড়া তার সাথে আমার ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোন সম্পর্ক ছিল না।" জালালের সাথে জন্মদিনের কেক কাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা জন্মদিন পালন করিনা৷ আমাদের নেতা ফজলে করিম চৌধুরীর নির্দেশে আমরা জন্মদিন বা কেক কাটা থেকে বিরত থাকি।" প্রতিবেদকের হাতে জালালকে সাথে নিয়ে তার কেকসহ ছবির আছে বলা হলে তিনি ছবিটি এডিট করা হতে পারে বলে জানান। যদিও প্রতিবেদকের হাতে জালালের সাথে এই কৃষক লীগ নেতার একাধিক ছবি আছে। জালালের সাথে গরু ব্যবসা প্রসঙ্গটি একেবারেই সত্য নয় বলে জানান সুমন৷ সেই গরু ব্যবসায়ী রফিককে চেনেন বলে স্বীকার করলেও তার সাথে কোন প্রকার অর্থনৈতিক লেনদেন নেই বলেও জানান তিনি। জিয়াউল হক সুমনের কাছে তার বড় ভাই হলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি জাহেদুল হক চৌধুরি নাছিম প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি সেটিও অসত্য বলে জানান। কমিটি অনুমোদনের যে কপিটি প্রচার হয়েছে সেটিও ফটোশপ বলে উড়িয়ে দেন ৷ 

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, "জালাল এলাকায় গরু বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।  সে গ্রেফতারের সময় তার ওখানে ৭টি গরু ছিল যা পরে রফিক, সুমনরা নিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি।  সর্বশেষ নাশকতার মামলায় বর্তমানে সে জেলে আছে বলে জানি৷ জালাল পারিবারিক ভাবেই বিএনপি৷ তার এক বড় মো: সেলিম এক সময় সাকা চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ও এনডিপি'র রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। ক্ষমতার পট পরিবর্তনে সে দেশ ছেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করছে। আরেক ভাই মোঃ নেজাম বর্তমানে আবুধাবীর শাহামা এলাকায় বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক। আমি এই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি৷ ১৫ বছর যাবৎ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম৷ বিগত ১৫ যাবৎ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করছি৷ সে যদি আওয়ামী রাজনীতি করতো তাহলে সবার আগে আমি জানতাম৷" উপজেলা কৃষক লীগ নেতা জিয়াউল হক সুমন যে বলছেন জালাল আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিতো? এই প্রসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর ইসলাম বলেন, "সুমন নিজেও তো আগে বিএনপি'র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তাদের আশকারা পেয়ে জালাল আজ অনেকের সাথে গরু ব্যবসার নামে প্রতারনা করার সাহস পেয়েছে। "





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy