
X
আসন্ন পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীতে স্থানীয় সংসদ ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা বৈঠক শেষে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার পিটস্টপ রেঁস্তোরায় চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বদি ও অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
বৈঠকে উপস্থিতি একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, মূলত আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দেয়া যায় কিনা সেটির বিষয়ে এই বৈঠক আয়োজন করেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা৷ তবে কোন প্রার্থীই একক প্রার্থীর বিষয়ে কাউকে ছাড় না দেওয়ায় বৈঠকে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বৈঠক শেষে পিটস্টপে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলম ও নগর যুবলীগ নেতা দিদারুল আলমের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দিদারুল আলম চেয়ারম্যান প্রার্থী বদিউল আলমকে থাপ্পড় মারেন। পরে বদিউল আলম তার এক অনুসারীকে নিয়ে দিদারুল আলমকে মারধর করেন। এসময় দিদারুল আলমের পাঞ্জাবী ছিড়ে যায় বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শীরা। উভয় পক্ষের এই হাতাহাতি এক পর্যায়ে পিটস্টপ ছাড়িয়ে এভিনিউ হোটেলের সামনের সড়ক পর্যন্ত পৌছে যায়৷ পিটস্টপ ও এভিনিউ নামক প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মরত একাধিক কর্মী এই প্রতিবেদককে দুই নেতার হাতাহাতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন৷
আসন্ন পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দাশ, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বদি, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার ও পটিয়া উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক সৈয়দ নুরুল আবছার প্রতিদ্বন্দিতা করছেন৷
আগামীকাল (রবিবার) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এ কারণে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা একক প্রার্থীর বিষয়ে শনিবার বিকেলে পিটস্টপ রেস্টুরেন্টে সমঝোতা বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল আলম দিদারের অনুসারী যুবলীগ, ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী মারমুখী অবস্থান ইস্পানীর মোড়ে অবস্থান নেয়। তবে হাতাহাতি নয় বদিউল আলমের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিদারুল আলম৷ তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, "নেতৃবৃন্দ উৎসব মূখর পরিবেশে যেন নির্বাচন হয় সেই বিষয়ে আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন৷ আমরা কেউ যেন কারো সাথে কাদা ছোড়াছুড়ি না করি সেই পরামর্শ দিয়েছেন৷" এই বিষয়ে বক্তব্য বদিউল আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম. শামসুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে পটিয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বৈঠকে কোন প্রার্থীই কাউকে ছাড় দিতে সম্মত না হওয়ায় আমরা একক প্রার্থীর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। বৈঠক শেষে চেয়ারম্যান প্রার্থী বদিউল আলম দলের সিনিয়র নেতাকর্মী নিয়ে গালাগালি করায় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল আলম প্রতিবাদ করে। এ সময় তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নগর যুবলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রার্থীদের সমঝোতা বৈঠক শেষে চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল আলম প্রথমে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী বদিউল আলমের গায়ে হাত তোলেন । সাথে সাথেই বদিউল আলমের এক অনুসারী দিদারুল আলমকে ঝাপটে ধরলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি সৃষ্টি হয়৷ এসময় দিদারের পাঞ্জাবি ছিড়ে যায়৷ এরপর দিদারুল আলমের অনেক অনুসারী ঘটনাস্থলে গেলেও ততক্ষণে সিনিয়র নেতারা দুই পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন৷
বৈঠকে উপস্থিত আরেক চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, "আমি বৈঠক শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ করে চলে এসেছি পরে গন্ডগোল হয়েছে কিনা আমি জানি না৷" এই দুই প্রার্থীর হাতাহাতির ঘটনা পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোন প্রকার প্রভাব পরবেনা উল্লেখ করে হারুনুর রশিদ বলেন,"উৎসব মুখর পরিবেশেই ভোট হবে৷ ৫০ পার্সেন্টের বেশী ভোট কাস্ট হবে।"