স্কুলের টয়লেটে শিক্ষার্থীর শ্বাসরুদ্ধকর ৬ ঘণ্টা!

মাদারীপুর প্রতিনিধি

সারাবাংলা

মাদারীপুরে স্কুলের টয়লেটে আটকা পড়ে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। ৬ ঘণ্টা বাথরুমে আটকে থাকার পর সন্ধ্যায় তালা ভেঙে

2024-05-18T17:30:55+00:00
2024-05-18T17:30:55+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
স্কুলের টয়লেটে শিক্ষার্থীর শ্বাসরুদ্ধকর ৬ ঘণ্টা!
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ৫:৩০ পিএম   (ভিজিট : ২২৪)
X

মাদারীপুরে স্কুলের টয়লেটে আটকা পড়ে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। ৬ ঘণ্টা বাথরুমে আটকে থাকার পর সন্ধ্যায় তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। 

গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর পাঁচখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।  ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাফিন হোসেন (৭) পাঁচখোলা ইউনিয়নের মৃত নুরুল হকের ছেলে।

এতটা সময় আটকে থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে কোমলমতি ওই শিক্ষার্থী। তাকে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যায় রাফিন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে টয়লেটে যায় সে। শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা থাকার কারণে সাড়ে ১২টার দিকে স্কুল ছুটি হয়ে যায়। ছুটির ঘণ্টা পড়লে সব শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যায়। পরে স্কুলের দপ্তরি খোকন খান শ্রেণিকক্ষ ও টয়লেটের দরজা তালাবদ্ধ করে চলে যান। এতে আটকা পড়ে রাফিন।  

বের হতে না পেরে অঝোরে কাঁদতে থাকে রাফিন। এক পর্যায়ে চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকে। কিন্তু দরজা-জানালা সব বন্ধ থাকায় রাফিনের কান্না ও চিৎকার স্কুলের বাইরে কারও কান অবধি পৌঁছায়নি। 

এ দিকে স্কুল ছুটির পরও রাফিন বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া এক পথচারী শুনতে পান তালাবদ্ধ স্কুলের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। তিনি দৌড়ে স্কুলের কাছে ছুটে যান। টয়লেটের ভেতর একটি শিশু আটকা পড়েছে বুঝতে পেরে তালা ভেঙে রাফিনকে উদ্ধার করেন।  

ঘটনাটি পরদিন শুক্রবার (১৭ মে) বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।

মাদারীপুর সদরের ৯ নম্বর পাঁচখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। এই ঘটনা কেউ ইচ্ছাকৃত করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন বলেন, ‘কেন এমন ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের সঙ্গে এমন ঘটনা কাম্য নয়।’

মাদারীপুর জেলা শিশু একাডেমির কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনা ১৯৮০ সালের শিশুতোষ চলচ্চিত্র ছুটির ঘণ্টা মতো হতো পারতো! বিষয়টি দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক। এই ঘটনার দায় প্রধান শিক্ষক, দপ্তরি—কেউই এড়াতে পারেন না। তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলা হওয়া উচিত।’     





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy