বিএডিসিতে বীজ দিতে অনীহা চাষীদের

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

প্রান্তিক পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মাঝে নানা জাতের ধানের বীজ বিতরণ এবং প্রতি মৌসুমে বীজ সংগ্রহ করে আসছে কৃষি

2024-05-26T13:10:05+00:00
2024-05-26T13:14:11+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সুবিধাবঞ্চিত চাষী
বিএডিসিতে বীজ দিতে অনীহা চাষীদের
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ মে, ২০২৪, ১:১০ পিএম  আপডেট: ২৬.০৫.২০২৪ ১:১৪ পিএম  (ভিজিট : ১৩৩)
X

প্রান্তিক পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মাঝে নানা জাতের ধানের বীজ বিতরণ এবং প্রতি মৌসুমে বীজ সংগ্রহ করে আসছে কৃষি মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। তবে নানা ধরণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এবং বৈষম্যতার কারণে কৃষি বীজ উৎপাদন ও বিপণনকারী এই সরকারী প্রতিষ্ঠানে বীজ দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন বগুড়া জোনের চুক্তিবদ্ধ কয়েক শত চাষী। 

সরকারের নানামুখী উদ্দ্যোগে সাধারণ কৃষক যখন ধান উৎপাদন করে তা বাজারে বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাচ্ছে, তখন বিএডিসিতে বীজ প্রদানের চুক্তিভূক্ত হয়ে অনেকাংশে লোকসানে পড়তে হচ্ছে চাষীদের। এ নিয়ে গত সপ্তাহের বুধবার রাতে বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে ঘোড়াঘাট পৌরশহরের বাস টার্মিনালে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সমিতিটির বগুড়া জোনের চাষীবৃন্দ। 

তারা সকলে বিএডিসিতে চুক্তিবদ্ধ এবং বগুড়া কন্ট্রাক্ট জোন এবং অধিক বীজের অধিনে বছরের পর বছর ধরে ধান সহ অন্যান্য বীজ উৎপাদন করে আসছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে বীজ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষী সমিতির বগুড়া জোনের সভাপতি নিপু মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল রেজা চৌধুরী লেবু, তাজুল ইসলাম, আহসান হাবিব, আব্দুল কাদের, জিন্নাহ সিদ্দিকী এবং আসাদুজ্জামান লিটু (মাস্টার) সহ আরো অনেকে।

তাদের দাবি, বিএডিসিতে বীজ দেওয়ার ২ মাসের মধ্যে এক কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধ করতে হবে, চাষীদের মাঝে বীজ বিতরণের সময় প্রকারভেদে বীজের ক্রয়মূল্য ঘোষণা করতে হবে এবং একর প্রতি ২ টন বীজ বিএডিসিকে নিতে হবে, উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে চাষীদের কাছে বীজ সরবরাহ করতে হবে, বীজ সংগ্রহের পূর্বে পর্যাপ্ত খালি বস্তা সরবরাহ এবং সরকারী গাড়ি ব্যবহার করে চাষীর কাছে থেকে শতভাগ বীজ সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে হবে। 

বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষী সমিতির বগুড়া জোনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল রেজা চৌধুরী লেবু বলেন, বিএডিসিতে বীজ দেওয়ার ৫ থেকে ৮ মাস পর কয়েক কিস্তিতে তারা আমাদেরকে টাকা পরিশোধ করে। বাজারে সাধারণ কৃষক যে দামে ধান বিক্রি করে, তার চেয়েও অনেকাংশে কম দামে দিয়ে বিএডিসি আমাদের কাছে থেকে বীজ নিয়ে যায়।

কোন কিছু ক্রয় করার আগে সরকার সেটির মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। তবে কেবলমাত্র এই বিএডিসি কোন মূল্য নির্ধারণ ছাড়া আমাদের কাছে থেকে বীজ নিয়ে যায়। তারা তাদের মনগড়া ভাবে আমাদেরকে টাকা দেয়। দিনশেষে দেখা যায় বীজ তৈরিতে আমাদের পরিশ্রম বেশি হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বেশি হচ্ছে। তবে আমরা টাকা পাচ্ছি সাধারণ কৃষকের চেয়েও কম। 

আরেক চাষী জিন্নাহ সিদ্দিক বলেন, বিএডিসি আমাদেরকে রোপনের জন্য বীজ দিয়ে যায়। আমরা নতুন করে যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ করে বীজ তৈরি করি। আমাদের কাছে থেকে এই বীজ নেওয়ার সময় তারা টালবাহানা শুরু করে। একজন চাষীর কাছে যে পরিমান বীজ নেওয়ার কথা, তার চেয়ে কম নেয়। এতে করে আমাদের উৎপাদিত ধান বীজ বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বীজ নেওয়ার সময় বস্তা ও গাড়ী ঠিকমত তারা সরবরাহ করে না। এছাড়াও সাধারণ কৃষকের ধান যখন এক হাত সাইজের হয়। তখন বিএডিসি আমাদেরকে বপনের জন্য বীজ দেয়। তাদের কোন সিস্টেম আমরা কেওই বুঝতে পারি না।







Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy