প্রকাশ: সোমবার, ৩ জুন, ২০২৪, ৪:২৪ পিএম (ভিজিট : ৪১৩)

X
প্রায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ মোঃ বাচ্চু মিয়া। দেড় যুগ ধরে এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। বয়সের ছাপে ও শারীরিক অসুস্থতার কারনে রঙ মিস্ত্রী বা রাজ মিস্ত্রীর জোগালী হয়ে কাজ করে একদিন কামাই দিয়ে ৩ দিন পার করছে স্বামী স্ত্রীর সংসার।
এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সে টাকায় টিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে থাকেন একই গ্রামের আবুল কালামের নতুন বাড়িতে। তাও এখন জায়গাটি ছেড়ে দিতে বললেন বাড়ির মালিক। নেই নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি। জীবনের শেষ বেলায় শান্তিতে থাকতে শেষ বয়সে মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজচ্ছেন বাচ্চু মিয়া। সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মহেশ্চর গ্রামের তাজল হকের বাড়ির আনার আহম্মেদর ছেলে মোঃ বাচ্চু মিয়ার ৭০ বছর বয়সে কপালে এখনো জোটেনি বয়স্ক বা সরকারি কোন ভাতা।
সম্প্রতি দুর্বিষহ কষ্টের ইতিহাসের কথা বর্ণনা করে বাচ্চু মিয়া বলেন, আমার নানুর কাছ থেকে শুনা আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন আমার বাবা আমার মা কে তালাক দিয়ে আমাদের রেখে চলে যায়। সে সংসারে আমি আর আমার এক বোন আমার মায়ের সাথে নানার বাড়িতে থাকি। এর কিছুদিন পর আমার মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়। এ সংসারে আমার আরো ৩ বোন। নানার বাড়ির আমার মায়ের যে সম্পদের উপর থাকতাম তা ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে আমার মায়ের কাছ থেকে এ ৩ বোন প্রায় ১৬ বছর আগে সব সম্পদ লিখে নিয়ে যায়। আমার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে।
মেয়েদেরকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিয়ে দিয়ে দিই। ছেলেরা বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে থাকে। আমার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে কখনো এ বাড়িতে কখনো ঐ বাড়িতে দিন পার করতে হতো। পরিশেষে আবুল কালামের বাড়িতে তিনি অস্থায়ীভাবে থাকার জায়গা দেয়।
গত ৩-৪ বছর এখানে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছি। বর্তমানে তিনি এ জায়গাটি ছেড়ে দিতে বলেন। বয়সের এ দারপ্রান্তে এসে কই যাব কি করবো কোন পথ পাচ্ছি না। আমাকে দেখার মতো কেউ নাই। সরকারি কোনো কার্ডও নাই। তাই সরকার যেন একটি ঘর তৈরি করে দিয়ে এবং একটি ভাতার কার্ড করে দিয়ে শেষ জীবনের নিরাপত্তা দেয় সে জন্য তিনি, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।
চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আকবর হোসেন বলেন, মোঃ বাচ্চু মিয়া একজন অসহায় ব্যক্তি। গত একবার তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করলে তার আইডি কার্ড অনুযায়ী বয়স না হওয়ায় ভাতার কার্ড করা সম্ভব হয়নি। আগামীতে বয়স্ক ভাতার আবেদন চালু হলে করে দেয়ার চেষ্টা করবো।
চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন বলেন, বিগত সময় তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন সহায়তা করা হয়। আগামীতেও সহায়তা করা হবে। একটি ঘরের ব্যবস্থা করতে আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহোদয়ের সাথে কথা বলবো।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান এর সাথে কথা বললে বাংলাদেশ বুলেটিন প্রতিনিধি কে বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হয়েছি। সত্যিকার অর্থে যদি উনি ঘর পাওয়ার উপযোগী হয় তাহলে ঘর পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় তিনি কিছু খাবারের ব্যবস্থা করে দিবেন বলেও জানান।