ফের আলোচনায় ইয়াবা খুলু : স্ত্রীর এনআইডি কারসাজি

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

সারাবাংলা

দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর আবারো সক্রিয় দেশের ইয়াবা সম্রাট হিসেবে পরিচিত রশিদ খুলু। ২০১২ সালে চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি

2024-06-13T21:56:43+00:00
2024-06-13T21:56:43+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ফের আলোচনায় ইয়াবা খুলু : স্ত্রীর এনআইডি কারসাজি
চট্টগ্রাম ব্যুরো :
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৯:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৬৮৩)
X

দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর আবারো সক্রিয় দেশের ইয়াবা সম্রাট হিসেবে পরিচিত রশিদ খুলু। ২০১২ সালে চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের একটি বরইয়ের গুদাম থেকে তৎকালিক সর্ব বৃহৎ ইয়াবার চালান উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিলো। সেদিন র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার হহ ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা। আর সেই  ইয়াবা মামলায় গ্রেফতার হয়ে আলোচনায় আসেন ইয়াবা চালানের মূল হোতা রশিদ আহমদ প্রকাশ রশিদ খুলু। দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকলেও বন্ধ নেই খুলুর ইয়াবা কারবার। শ্যালক, মেয়ের জামাতা ও ছেলের মাধ্যমে খুলু দেশ জুড়ে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে দেশে বিদেশে গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়। 

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত  তিন কোটি পনেরো লাখ টাকার সম্পদ উপার্জন অভিযোগে রশিদ খুলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একটি মামলাও দায়ের করে। সেই মামলাটি এখনো চলমান।  মাঝে ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে হালিশহরের নিজ বাড়িতেই অবস্থান করে ইয়াবা সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে খুলু। 

সম্প্রতি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে খুলুর নাম। এবার তার নাম জড়িয়েছে এনআইডি জালিয়াতির সাথে। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০২১ সালের শেষের দিকে হাসিনা আক্তার নামের এক নারীকে বিয়ে করেন খুলু। ২০২২ সালে সেই নারীকে বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দেন ।  সেই জাতীয় পরিচয় পত্রে ঠিকানা উল্লেখ করা হয় বাসা নং -৩৯, রাস্তা-২, কর্ণফুলী আগ্রাবাদ, ডাকঘর-রামপুর (৪২২৪), হালিশহর চট্টগ্রাম। এই ঠিকানাটি রশিদ খুলুর নিজের বাড়ির ঠিকানা। একাধিক সূত্র বলছে, এই এনআইডি ব্যবহার করে ২য় স্ত্রীর জন্য পাসপোর্ট তৈরি করার চেষ্টা করেন রশিদ খুলু। 

খুলুর পারিবারিক ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, পাসপোর্টের আবেদনের তথ্য বিচার বিশ্লেষণে ১৯৭৮ সালে জন্ম নেয়া রশিদ খুলুর কথিত ২য় স্ত্রী হাসিনার পূর্বের কোন এনআইডি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়৷ ফলে পরিচয় ভেরিফিকেশন নিয়ে সৃষ্টি হয় জটিলতা। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালে জন্ম নিয়ে বাংলাদেশে বসবাস করলে সেই নাগরিকের এতোদিনে এনআইডি নিবন্ধন হয়ে যেতো। হাসিনা বেগম নিজেকে টেকনাফ শাহ পরীর দ্বীপের বাসিন্দা দাবি করছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় হাসিনা বেগম আরো আগেই এনআইডি করার কথা। কারণ যেসব এলাকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে সেখানের স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের পরিচয় পত্র সবসময় সাথে রাখে। অন্যদিকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে হাসিনা বেগমের অতীত কোন রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে হাসিনা বেগম বাংলাদেশের নাগরিক নন। এসব কারণে হাসিনা আক্তারের নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়নি। সূত্রটি বলছে, এই এনআইডি জালিয়াতির কারণে খুলু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা হওয়ার কথা থাকলেও মোটা অংকের অর্থ দিয়ে এসব ধামাচাপা দিয়েছে খুলু। এসব বিষয়ে জানতে রশিদ খুলুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, "হাসিনা বেগমের এনআইডি'র ঠিকানাটি তার নয়। এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে ফোনের সংযোগটি কেটে দেন"। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর বাড়ির রশিদ খুলুরই ছিলো। তবে বর্তমানে তিনি কর্ণফুলী আবাসিকের ১ রোডের ৩ নম্বর লেনের সাজেদা ভবনের বসবাস করছে৷ এই ভবনটি খুলুর প্রথম স্ত্রীর মালিকানায়। আর এই ভবন নির্মান ও জমির ক্রয়ের বিপরীতে আয়ের কোন উৎস দেখাতে না পারায় এই ভবন নিয়ে দুদক মামলা দায়ের করেছে৷  

২০১৫ সালে খুলুর সিন্ডিকেটের প্রধান জাহিদুল ইসলাম ওরফে আলো ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ার পর তিনি চট্টগ্রামের সব অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়।  ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম ও অফিস গড়ে তোলেন রশিদ খুলু। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ১০৫ ইয়ারা ব্যবসায়ীর সাথে আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে পুনরায় ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেন রশিদ খুলু।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, খুলু নিজেও মায়ানমারের বাসিন্দা ছিলেন। সেই সূত্রে মিয়ানমারের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সুবাদে রশিদ খুলু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমান তার এক মেয়ের জামাতা ও ছেলে খুলুর ইয়াবা সাম্রাজ্য দেখবাল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷ 

দেশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও দুদকের মামলার আসামি রশিদ খুলু বর্তমানে তার কনিষ্ঠ কন্যার রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করতে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামের সবচেয়ে দামি পাঁচ তারকা হোটেলে এই বিয়ের আয়োজনের কথা গণমাধ্যমের কাছে তিনি স্বীকারও করেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি দুদক কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, "দুদক কে আসতে বলেন। আমি বাসাতেই থাকি৷ আমার ছোট মেয়ে আবদার করেছে রেডিসনে যেন তার বিয়ের আয়োজন করে তাই সেটা করছি।"





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy