ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে মানছেন না আন্দোলনকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

বিচারালয়ের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের পর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি করার খবর এলেও তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন

2024-08-10T18:12:41+00:00
2024-08-10T18:12:41+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে মানছেন না আন্দোলনকারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৪, ৬:১২ পিএম   (ভিজিট : ৫৩৭)
X

বিচারালয়ের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের পর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি করার খবর এলেও তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা। আজকের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে তারা।

আপিল বিভাগের বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে হাই কোর্টের পাশে শিক্ষা চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

দাবির মুখে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আপিল বিভাগের সাত বিচারকের মধ্যে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম পদত্যাগ করেননি। তাকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি করা হচ্ছে বলে বিকালে খবর আসে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দাবিতে প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। আমরা জেনেছি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে মো. আশফাকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গত পনের বছর তিনি হাসিনাকে সার্ভ করেছেন। তাই আমরা এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করছি।

"গত পনের বছর যে অত্যাচার হয়েছে, তিনি তার সহযোগী। আমাদের দাবি, তাকে সরিয়ে সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।"

বিচারপতিদের পদত্যাগের কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের শূন্যতা পূরণে হাই কোর্ট বিভাগের ৭ বিচারকে সর্বোচ্চ আদালতের দায়িত্ব দেওয়ারও খবর এসেছে ইতোমধ্যে। সাতজনের ওই সম্ভাব্য তালিকাতেও বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নাম রয়েছে।

বাংলাদেশের তৃতীয় অ্যাটর্নি জেনারেল এবং দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করা ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের ছেলে সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২০০৩ সালে হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ার দুই বছর পর স্থায়ী নিয়োগ পান।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানে তাদের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ছাত্র-জনতার রক্ত হয়ে কবরস্থানের মাধ্যমে আমরা খুনি হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি। এটি আমাদের প্রাথমিক বিজয়। খুনি হাসিনা যখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তখন একটি গোষ্ঠী আবারও উঠে পড়ে লেগেছে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য। সারা বিশ্বব্যাপী চক্রান্ত শুরু হয়েছে। দেশে বিদেশে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র আমরা ঘুরিয়ে দেব।”

তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, আজ যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে। বিচার বিভাগীয় ক্যু করে, এই সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছিল খুনি হাসিনার নিয়োগকৃত বিচারপতি। আমরা খুনি হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, কিন্তু যদি এই বিচার ব্যবস্থাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারি, তাহলে আমাদের যেই ন্যায্যতার স্বপ্ন রয়েছে সেটি আমরা কখনোই প্রতিষ্ঠিত করতে পারব না।

"যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা হাই কোর্টকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারছি, ততক্ষণ আমরা রাজপথ ছাড়ব না।"

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার তিন দফা দাবি ঘোষণা করে বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার বিভাগ পুনর্গঠন করতে হবে। হাসিনার পুলিশ প্রশাসন আমরা চাই না, পুলিশকে পুনর্গঠন করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে নিরস্ত্র করে পুনর্গঠন করতে হবে, যে পুলিশ হবে জনতার পুলিশ।

"তৃতীয় দাবি- সারাদেশে একটি কুচক্রী মহল সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালানোর মাধ্যমে আমাদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা যারা আন্দোলন করেছে, তারা হামলার পক্ষে না। আমরা দেখেছি সংখ্যালঘু ভাইয়েরা তাদের নিরাপত্তা চাচ্ছে, নিরাপত্তার জন্য দাবি তুলেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সাথে বসে তাদের দাবি মেনে নিন।”





Loading...
Loading...


আইন-আদালত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy