
X
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলে আর ভারী বর্ষণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া,বিজয়নগর,কসবা বেশ কয়েকটি এলাকা বন্যা প্লাবিত হয়েছে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন ভবনে অতিরিক্ত পানি জমে স্থল বন্দরের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ।প্রায় ৪০ টি গ্রাম পানিবন্ধি অবস্থায় আছে।
জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় আখাউড়া-আগরতলা সড়কের গাজীরবাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী সেতু ভেঙে গেছে এতে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যান চলাচল এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।
স্থলবন্দর সড়কের পাশে আমদানি-রপ্তানিকারকদের বেশিরভাগ অফিসও পানিতে তলিয়ে গেছে। আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, রপ্তানি কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন আক্তার বাংলাদেশ বুলেটিন প্রতিনিধিকে জানান , আখাউড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি এখন কিছুটা গত কয়কদিনের তুলনায় উন্নতি দিকে, চেকপোস্ট সড়কে সেতু টি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে এবং ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি আরও জানান, বেশ কয়েকটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং সেতু মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে। তবে সেতুটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।বন্যার্থদের উদ্ধারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্য দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢ্ল ও ভারতের থেকে নেমে আসা পানিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।অনেক স্থানে বাড়ি ঘরের আশপাশে পানি উঠেছে এবং রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।
পানি বন্ধি হয়ে পরেছে বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাটির ঘর সহ বেশ কয়েকটি ঘর ভেঙেছে ও পুকুর ডুবে মাছ ভেসে যাচ্ছে। গাছগাছালি নষ্ট হয়েছে এবং ফসলী জমি ডুবে গিয়ে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।বাড়িতে পানি আসায় গো খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলা কৃষি অফিসার সাব্বির আহমেদ জানান,বাড়িঘর সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারন করা যায়নি।
সিংগারবিল, বুধন্তি,বিষ্নপুর এলাকায় প্রায়৩০ হাজার হেক্টর আমন জমির ধান নষ্ট হয়েছে এবং লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে।প্রকল্প কর্মকর্তা শাহিনুর জাহান জানান, উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের খুদেহারিয়া গ্রামের সুজন মিয়া ও মুকন্দপুরের বামুটিয়া গ্রামের রবিউল আলমের ঘর সহ বেশ কয়েকটি মাটির ঘর ভেঙে ধসে পরেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহবুবুল হক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন,বর্ডার এলাকার গ্রাম গুলোতে পানি এসেছে। ঘরবাড়ি ভাংচুর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষ্যয়ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের নিরাপদ আশ্রয় স্থলে পাঠানো হচ্ছে।স্কুল কলেজকে আশ্রায়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং দ্রুত পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে জানান, আখাউড়া ও কসবা এলাকার প্রায় ১২শত পরিবার পানি বন্ধি অবস্থায় আছে।ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১৫মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।