বগুড়ায় দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ আ:লীগ নেতার বিরুদ্ধে

বগুড়া প্রতিনিধি

সারাবাংলা

জোরপূর্বক অন্যের সম্পত্তি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগ

2024-08-28T18:18:02+00:00
2024-08-28T18:18:02+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
বগুড়ায় দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ আ:লীগ নেতার বিরুদ্ধে
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৪, ৬:১৮ পিএম   (ভিজিট : ২১৫)
X

জোরপূর্বক অন্যের সম্পত্তি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মাশরাফি হিরো ও তার পিতা বগুড়া প্রধান ডাকঘরের অবসরপ্রাপ্ত পোস্টাল কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। 

বাড়ি দখলের পর জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওই দাগের মূল দলিল টেম্পারিং করারও অভিযোগ উঠেছে এই পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে। এছাড়াও দখলকৃত বাড়ির জমি নিজেদের নামে ডিপি খতিয়ান করে না দেয়ায় তৎকালিন জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা ও তার অধিনস্ত সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাদের চাকুরিচুত্য করারও হুমকি প্রদান করা হয়েছিল বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। 

এ ছাড়াও আওয়ামীলীগ নেতা হিরো বাদী হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০০ কোটি টাকার একটি মানহানী মামলা দায়ের করেছিলেন। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ি মৌজার সিএস নক্সা অনুযায়ী ১৯১৪ দাগে জমি ২৬ শতক, ১৯১৫ দাগে জমি ৯ শতক। 

সিএস পর্চা মুদ্রণকালে ভুলক্রমে ১৯১৪ দাগে ২৬ শতকের স্থলে ৯ শতক ও ১৯১৫ দাগে ৯ শতকের স্থলে ২৬ শতক মুদ্রিত হয়। ১৯১৫ দাগ বাবদ সিএস ৮৪৪ নং এর মালিক ফকির উদ্দিন খলিফা এবং ১৯১৪ দাগ বাবদ সিএস ৯০৬ নং এর মালিক মহির উদ্দিন ও বনিজ মন্ডল দিং নামে দেখা যায়। 

দলিল দৃষ্টে দেখা যায় ১৯৪৩ সালে সিএস ৮৪৪ এর মালিক ফকির উদ্দিন খলিফা ১৯১৫ দাগে সাকুল্য সম্পত্তি তাহের উদ্দিন মন্ডল বরাবর হস্তান্তর করে। স্বত্ব ও দখল না থাকা সত্বেও একই সম্পত্তি প্রতারণা মূলকভাবে ১০ বছর পর ১৯৫৩ সালে তদীয় নাতি আব্দুল মান্নান খলিফা বরাবর হস্তান্তর করে। ১৯৬৭ সালে ওই স্বত্বহীন দলিলের ৯ শতক সম্পত্তি মোজাম্মেল হক খলিফা বরাবর কবলা দলিল করে দেয়। স্বত্ব না থাকা সত্বেও মোজাম্মেল হক খলিফা ২০০৯ সালে মফিজুর রহমানের নিকট ৩ শতক কবলা মূলে হস্তান্তর করে। 

সিএস মালিক ফকির খলিফার নিকট থেকে প্রথম ক্রয়কৃত জমি ১৯৫৪ সালে তাহের উদ্দিন সাড়ে ৭ শতক জমি বাচ্চা শেখ ও রমজান শেখ বরাবর হস্তান্তর করে। এই গ্রাহিতাদ্বয় তাদের ক্রয়কৃত সাড়ে ৭ শতক সম্পত্তি ১৯৫৭ সালে জনৈক দেলোয়ার হোসেন খলিফা বরাবর হস্তান্তর করে। ১৯৬১ সালে তিনি নও মুসলিম সোনা বিবির (উমা দাসী) নিকট হস্তান্তর করেন। 

সিএস মালিক থেকে চার হাত বদল হওয়ার পর  ক্রেতা ও বিক্রেতা যখন বুঝতে পারেন সাবেক ১৯১৪ দাগে প্রকৃতপক্ষে জমি ২৬ শতক তাহা ভুলক্রমে ১৯১৫ দাগে হয়েছে তখন থেকেই জাল জালিয়াতি শুরু করা হয়। 

সোনা বিবির ক্রয়কৃত সাড়ে ৭ শতক সম্পত্তি বৃদ্ধি করার অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতা না থাকা সত্বেও ১৯৬৭ সালে দুটি ভুয়া ভ্রম সংশোধন দলিল সৃষ্টি করে অন্য খতিয়ান অর্থ্যাৎ সিএস ৮৪৪ এর পরিবর্তে সিএস ৯০৬ খতিয়ান উল্লেখে ১৯১৪ দাগের সমস্ত সম্পত্তির মালিক সেজে সোনা বিবি বিভিন্ন লোকের নিকট বিক্রির পর তার নামে জমি না থাকা সত্বেও সাড়ে ৭ শতক জমি ১৯৭২ সালে হাজেরা খাতুন বরাবর হস্তান্তর করে যা জালিয়াতিতে ভরপুর। 

অতিরিক্ত ভুয়া জমি জায়েজ করার লক্ষ্যে হাজেরা খাতুন ২০০৮ সালে দুটি দানপত্র দলিল মূলে চার পুত্র সিরাজুল, সুমন, আপেল ও রুবেলের নিকট দলিল করে দেয়। উক্ত দলিল মূলে ১৯১৫ দাগে দলিল করে নিয়ে দখল করে আছে ১৯১৪ দাগের সম্পত্তি।

বগুড়া শহরের সূত্রাপুরের বাসিন্দা একেএম আমিনুল ইসলাম খন্দকার ১৯৭৯ সালে একটি ভুয়া ভ্রম সংশোধনী দলিলের রেফারেন্স দিয়ে সোনা বিবির নিকট হতে ৫ শতক জমি দলিল করার পর মৃতবরন করে। 

মরহুম আমিনুল ইসলামের জীবদ্দশায় রফিকুল ইসলামের সাথে উভয়ের পরিবারের সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল। ওই সুবাদে রফিকুল আমিনুলের ওয়ারিশদেও জানায়, তার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা। নামমাত্র টাকা দিয়ে উক্ত ৫ শতক জমি দখল করে নিয়ে বাড়ি নির্মান করেন। ওই জমির সিএস মালিক মহির উদ্দিন মন্ডলের নাতি সামছুল মন্ডল জানান, ওই জমি আমাদের পূর্ব পুরুষরা ভোগ দখল করতেন।

কয়েক বছর আগে হঠাৎ আওয়ামী লীগের লোকজন এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দিয়ে বাড়িটি দখলে নেয়। আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে চাই। এজন্য বর্তমান সরকারের নিকট সার্বিক সহযোগিতা চাই।  







Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy