
X
যশোরের কেশবপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে (একটি বাড়ি একটি খামার) ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
সূত্রে জানাগেছে, কেশবপুরের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ওবায়দুল ইসলাম পলাশ এক বছর আগে কেশবপুর ব্রাঞ্চে আসে। এসেই লবিং গ্রুপিং শুরু করেন।
প্রতিবাদ করলে ব্রাঞ্চে কর্মরত কর্মচারীদের উপর দূর ব্যবহার করেন। তিনি যোগদান করার পর থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়ম-নীতি ও তোয়াক্কা করেন না।
দুপুরের লাঞ্চ করতে লাগে বেশিরভাগ সময় দুই থেকে তিন ঘন্টা,লোন দেওয়ার সময় প্রত্যেকটা সদস্যের পাস বইও ফরমের জন্য ৭০/১০০টাকা নিয়ে থাকেন যেটা নেওয়ার কোন নিয়ম নাই। অফিসের টাকা কিছু অসাধু কর্মচারীদের যোগ সাজে লোপাট করেন বলেও একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে,অফিসের উন্নয়নমূলক কোন কর্মকান্ডে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও তিনি স্টাফদের বেতন থেকে অর্থ নিয়ে থাকেন। প্রত্যেকটা স্টাফ এর সাথে তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে অফিসের কর্মরত কর্মচারীরা জানান।
গত ১৮ আগস্ট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামিনুর রহমানের দুর্নীতি আড়াল করার জন্য ঢাকার রাজপথে ফ্যাসিস্ট আন্দোলন করার লক্ষ্যে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের অবহিত করলে কেশবপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ম্যানেজার ওবায়দুল ইসলাম পলাশ এর নেতৃত্বে ব্যাংক থেকে তার মনোনীত একটি গ্রুপকে নিয়ে তিনি আলাদাভাবে ঢাকায় যান।
সেইদিন অফিসে পাঁচজন কর্মচারীকে অনুপস্থিত দেখিয়ে হাজিরা বইতে লালকালি দিলেও পরবর্তীতে তিনি সেটা উপস্থিত দেখিয়ে তাদের লাঞ্চ এবং বেতনের টাকা বৈধ করে দেন। এ বিষয়ে সরাসরি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ওবাইদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি একবার বলেন তিনি ঢাকাতে যান নাই, ব্যক্তিগত ছুটি নিয়ে পরিবারের সাথে ছিলেন।
উদ্ধতন কর্মকর্তা এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য তার কাছে কোন ধরনের অফিস আদেশ দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান লিখিত কোন আদেশ আমি পাই নাই তবে সদ্য পদত্যাগ কৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামিনুর রহমানের একটি ভিডিও বার্তা পেয়েছিলেন।
অথচ ঢাকাতে যাওয়া পাঁচজন কর্মচারী অনিমা রানী রেজওয়ান, গৌরচন্দ্র পাল, দেবব্রত পাল ও শাহিনা খাতুন,সাংবাদিকদের এক ভিডিও বার্তায় জানান, স্যার আমাদের সাথে না গেলেও ঢাকাতে গিয়ে আমাদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।
শুধু তাই নয় প্রধান কার্যালয় থেকে কয়েক মাস আগে অনিমা রানী কর্মকার নামে একজন মাঠকর্মী অনেক সদস্যদের লোন দিয়ে ভুলভাল বুঝিয়ে দ্বিগুণ সুদ আদায়,লোনের নামে অন্যের টাকা নিজে আত্মসাৎ, এক সদস্যকে ৪০ হাজার টাকা লোন দিয়ে বইতে ৪৫ হাজার টাকা লিখে সেই টাকা জোরপূর্বক আদায়সহ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির কারণে তাকে অন্যত্রে বদলি করলেও তার স্বামী কেশবপুর বি আর ডিবির কর্মকর্তা সুজন সাহার যোগসাজসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ব্রঞ্চ ম্যানেজার ওবায়দুল ইসলামকে ম্যানেজ করে পুনরায় তার স্ত্রীকে কেশবপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে যোগদান করান বলে সূত্রে জানা গেছে। অনেক সদস্যদের প্রশ্ন দুর্নীতিগ্রস্ত মাঠকর্মী অনিমাকে কিভাবে আবার এই অফিসে যোগদান করানো হলো ?
এ ব্যাপারে যশোর জেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেনের কাছে ঢাকাতে আন্দোলন করতে ম্যানেজারসহ যে কর্মচারীরা গিয়েছিল তাদের বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান হেড অফিসের মৌখিক নির্দেশ ছিল,তিনি কোন আদেশ দেননি ।
এ বিষয়ে উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক চলতি দায়িত্বে খাঁন ইকবাল হাসান বলেন যদি কেউ ১৮ আগস্ট সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামিনুর রহমানকে বাঁচানোর জন্য এই আন্দোলনে এসেছিল তাদের জন্য আমরা একটা তদন্ত টিম করে দিয়েছি তদন্ত করে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাঠকর্মী অনিমা রানী কর্মকারের দুর্নীতির কথা জানতে চাইলে তিনি জানান হেড অফিসের যে তদন্ত কমিটি যাবে সেই তদন্তে যদি তিনিও অভিযুক্ত হয়ে থাকেন তাহলে তারও ব্যবস্থা নেয়া হবে।