
X
সীমান্তবর্তী উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে এসে অবৈধ পথে সীমান্ত পার হচ্ছে নানা বয়সী নারী-পুরুষ।
এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়ছে কিছু লোকজন।স্থলপথে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম আখাউড়া সীমান্ত।ভৌগোলিক অবস্থানের ফলে অবৈধ সীমান্ত পারার দিনদিন বাড়ছে এ পথে।
মূলত সীমান্ত পার হলেই ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহর। আর শহর থেকে খুব কাছেই বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশন। তাছাড়া দেশের অন্যান্য সীমান্তের চেয়ে এ সীমান্ত অনেকটা নিরাপদ। তাই আখাউড়া সীমান্ত পথে অবৈধ পারাপার বেড়েছে।
স্থানীয়রা বলছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধ পথে সীমান্ত পার করার কাজ করছে একাধিক চক্র। এই চক্রের সদস্যরা হলো আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর মধ্যে পাড়ার হেবজু ভুইঁয়া'র ছেলে আল-আমীন ও বিজয় তাদের সাথে রয়েছে মনিয়ন্দ ইউনিয়নের খারকোট গ্রামের সাত্তার মিয়ার ছেলে হাসান মিয়া। অন্য দিকে দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে কিবরিয়া ও কালিকাপুর গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে হুমায়ুন মিয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর মধ্যে পাড়া, ধলেস্বর (কাওয়ালী মুড়া) ও কালিকাপুর সীমান্ত দিয়ে দিনে-রাতে স্থানীয় কিছু দালাল চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু অবৈধ পথে ভারত বাংলাদেশ যাতায়াত করে।
মাথাপিছু ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে দালাল চক্রের সদস্যরা। ওই টাকা থেকে ভারতীয় দালাল নিয়ে থাকে জনপ্রতি এক হাজার ৫০০ টাকা, দালালের বাড়ি থেকে সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া পার করে দেওয়ার লেবার পেয়ে থাকে ৫০০ টাকা। প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার টাকা।এতে করে একজনকে ওপারে পাঠাতে খরচ হয় ৩ হাজার টাকা। উপজেলার এ সীমান্তে সরাইল ব্যাটালিয়ন(২৫ বিজিবি'র) অধীনে ফকির মুড়া বিওপি ক্যাম্প রয়েছে।
হীরাপুর মধ্যে পাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির, হাবিজ ভুঁইয়া ও ইকবাল ভুঁইয়াসহ ধলেস্বর এলাকার একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ জন লোক সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ পারাপার হয়। এই চক্রটা খুব ভয়ংকর। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না।
এলাকার কেউ প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মাদক মামলা ও মারধরের শিকার হতে হয়। গেল কয়েকদিন আগে হীরাপুর এলাকার দু'জন নিরীহ ছেলেকে মারধর করেছে আল-আমীন ও তার লোকজন। একজনের মাথায় দা দিয়ে কুপিয়েছেন।ওই ছেলের মাথায় ১২ টি সেলায় করা লাগছে।
অন্য এক ছেলেকে ধরে নিয়ে হাতপা বেধে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।উল্টো আমাদের কে ধমকায়।এ পথে মানব পাচার, মাদকদ্রব্য সবকিছুই চলে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায়। প্রশানের লোকজনের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
আখাউড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, আল-আমীনের নামে আখাউড়া থানায় ২২টি মাদক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে হুমায়ুন মিয়ার নামে রয়েছে ৬ টি মামলা।আর কিবরিয়ার নামে আখাউড়া থানায় আটটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি এবং নরসিংদীর রায়পুরা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।
অভিযুক্ত কিবরিয়ার মোবাইলে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে, প্রথমে তিনি এসব বিষয়ের তার কোন সম্পৃক্ততা নাই বলে অস্বীকার করেন। এসব কাজের সাথে যুক্ত না থাকলে তার বিরুদ্ধে এত মামলা কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন মামলার বিষয় গুলো ভিন্ন, বলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরপর একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল ধরে নাই।
অন্য অভিযুক্ত আল-আমিন ও হুমায়ুন মিয়ার নম্বরে একাধিক বার ফোন দিয়ে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।পরে তাদের বাড়িতে গেলে স্বজনরা জানান তারা বাড়িতে নেই। তাদের অবস্থান জানাতে ও মুঠোফোন নম্বর দিতে পরিবারের সদস্যরা অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল বলেন, সীমান্তে দায়িত্ব পালন করেন বিজিবি। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের মাধ্যমে বিজিবির সাথে আলোচনা করে অবৈধ মানব পারাপারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
সীমান্তে অবৈধ পারাপারের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি'র) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল ফারাহ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সীমান্তে অবৈধ পারাপারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয় মাথায় রেখে ইতিমধ্যে আমরা বিওপিতে লোকবল বৃদ্ধি করেছি।
উল্লেখ্য সম্প্রতি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রায় প্রতিদিন অবৈধ অনুপ্রবেশকারি বিভিন্ন বয়সের নারীপুরুষ বাংলাদেশি নাগরিক আটকের খবর প্রকাশ হচ্ছে তাদের গণমাধ্যমে।