প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৪:১২ পিএম (ভিজিট : ২৫১২)

X
দেশের অন্যতম বৃহত পাইকারি ব্যবসায়িক এলাকা খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই থেকে বাকলিয়া এলাকায় যুবলীগ নেতা পরিচয়ে আধিপত্য বিস্তার করতো রাজাখালি চাক্তাই মোশাররফ হোসেন রোডের মৃত আলী আজমের ছেলে মোঃ সাদ্দাম৷ দলীয় কোন পদ না থাকলেও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন যুবলীগ নেতা হিসেবে৷
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর অবৈধ পণ্যের ব্যবসা করে বিগত সরকারের আমলে হয়ে উঠেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক৷ তার অবৈধ মাদক ব্যবসার অন্যতম সহযোগী আছদগঞ্জের ইসহাক মিয়ার ছেলে সুমন৷ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এই দুইজনের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানোর পাশাপাশি নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলনকে প্রতিহত করতে অর্থের জোগান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসকল অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় একাধিক মামলাও দায়ের হয়েছে। সাদ্দামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতেও মমলা করেছেন এক ভূক্তভোগী৷
তবে নিজের বড় ভাই বিএনপি সমর্থক হওয়ার সুবাদে স্থানীয় কতিপয় বিএনপি দলীয় নেতাদের ম্যানেজ করে এলাকায় আধিপত্য ধরে রেখেছে সাদ্দাম। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করায় বাদিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই সাদ্দামের বিরুদ্ধে৷ এই সংক্রান্তে বাকলিয়া থানায় সাদ্দাম সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি (নম্বর ৩০৩ তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর) করেন একটি মামলার (কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১০ / ৯ তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং) মোঃ ইব্রাহিম।
চাক্তাই রাজাখালি ও বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এক সময় সাদ্দামের সহায়সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না৷ তবে হঠাৎ করেই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারি থেকে যুবলীগ নেতার তকমা লাগিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যায় এক সময়ের দিন মজুর সাদ্দাম৷ বিশেষ করে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার আড়ালে অবৈধ পন্য সরবারহ করে গড়ে তুলেছে বিপুল অর্থবিত্ত। নিজের এই সাম্রাজ্য ধরে রাখতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী৷ স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ আশ্রয় প্রশ্রয়ে চাক্তাই, বাকলিয়ার ব্যবসায়ীদের ওপর নির্বিচারে জুলুম অত্যাচার চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে৷
এদিকে কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ই আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর চড়াও হয় কথিত যুবলীগ নেতা সাদ্দাম ও চিহ্নিত মাদক কারবারি সুমন বাহিনী। এ সময় তারা নগরীর কোতোয়ালি মোড় থেকে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছাত্রদের মারধর করে। ৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের ধাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার সময় সাদ্দাম, সুমনরা বেশ কয়েকজন ছাত্রকে বাঁশ, লাঠি দিয়ে মেরে জখম করেছে।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোঃ সাদ্দামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে সুমনের মোবাইলেও কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে কোতোয়ালি থানার দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ছাত্র আন্দোলনে মারামারির অভিযোগটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। জড়িত থাকলে শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।