
X
খুলনার দাকোপে বিভিন্ন দূর্গা মন্দিরের পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে উড়োচিঠি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় থানায় পৃথক ৪টি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে। তবে চিঠি পাওয়ার পর এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চিঠিতে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে দূর্গাপূজা করতে হলে প্রতিটি মন্দির থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। চাঁদার টাকা না দিলে এবং এসব কথা প্রশাসন মহল, সাংবাদিক ও ভিন্ন কাউকে জানালে কচু কাটা করা হবে। হানিফের প্রজেক্টে যেমন করেছি তোদের পরিণতিও তেমন হবে। এমনকি পরিবারও রেহাই পাবে না।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ডাকযোগের এ চিঠি পেয়েছেন। কম্পিউটার কম্পোজ করা প্রায় সব কয়টি চিঠির বক্তব্য একই। মন্দিরের সভাপতি ও সম্পাদককের উদ্দেশে এসব চিঠি লেখা হয়েছে। হলুদ খামের ওপর প্রাপক মন্দির কমিটির ঠিকানায় এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ প্রতিটি চিঠি পাওয়ার পর ভীত সন্ত্রস্থতার সহিত জীবন যাপন করছেন তারা।
এ ঘটনায় উপজেলার রামনগর ঠাকুর বাড়ি সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি অনুপ চ্যাটর্জী, কালিনগর বাজার সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি তপন মন্ডল, রামনগর বিনাপানি সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বুদ্ধদেব রায় ও সুতারখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কুমারেশ বৈষ্ণব গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন।
যার জিডি নম্বর যথাক্রমে ৬৯১, ৬৯২, ৬৯৩ ও ৬৯৪। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
হানিফের প্রজেক্টের বিষয়ে শ্রীনগর এলাকার কয়েকজন জানান, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাগদা চিংড়ির হ্যাচারীতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে লুটপাট চলে।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অসিত বরণ সাহা এ প্রতিবেদকে বলেন, ডাক যোগে চিঠি পাওয়ার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে মন্দির কমিটির সদস্য এবং এলাকার মানুষদেরকে নিয়ে সভা করেছেন।
সেখানে বেশির ভাগ মানুষ পূজা না করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আবার কিছু মন্দির কমিটি পূজা করার মতামত দিয়েছেন। তবে সবাইকে নিয়ে এ বছর কোনমতে ছোট পরিসরে পূজা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তা ছাড়া প্রত্যেক মন্দিরে প্রতিদিন পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, উড়োচিঠির ঘটনায় থানায় এ পর্যন্ত ৫টি মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি কে বা কারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ছাড়া জিডিগুলো কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া সেনাবাহিনী পুলিশের যৌথটিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে।