কক্সবাজার সৈকতে ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

রাশেদুল ইসলাম, কক্সবাজার

সারাবাংলা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশে বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে তোলা পাচ শাতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে

2024-12-08T15:49:28+00:00
2024-12-08T15:53:00+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
কক্সবাজার সৈকতে ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
অভিযান চলমান থাকবে এডিএম নিজাম উদ্দীন
রাশেদুল ইসলাম, কক্সবাজার
প্রকাশ: রোববার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৩:৪৯ পিএম  আপডেট: ০৮.১২.২০২৪ ৩:৫৩ পিএম  (ভিজিট : ১৫৩)
X

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশে বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে তোলা পাচ শাতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ করা হয়।

শনিবার বেলা ১২টা থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে বসানো ঝিনুক মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান চলমান রেখেছেন পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তানভীর আহমেদ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) নিজাম উদ্দিন আহমেদ এর দিক-নির্দেশনায় কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী এ অভিযান শুরু করেন।

এসময় দোকানের মালিক ও হকারদের নিজ দায়িত্বে মালামাল সরিয়ে নিতে মাইকিং করার পর যেগুলো বহাল থেকে গেছে সেগুলো সরিয়ে সৈকতের সৌন্দর্য ফিরিয়ে এনেছে প্রশাসন।
ইউএনও নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, হাইকোর্টের আদেশে সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে সব ধরণের স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অনুযায়ী সৈকতের দখল ছেড়ে দিতে সবাইকে আহবান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। যারা আহবানে সাড়া দেয়নি তাদেরগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) নিজাম উদ্দিন আহমেদ দ্যা ডেইলি মেসেঞ্জারকে বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সৈকতের লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত অন্তত ৫০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দীন আহমেদ৷

অভিযোগ রয়েছে, জোয়ার-ভাটায় সাগরের ঢেউয়ের যাতায়াত স্থান থেকে ৩০০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত কোন স্থাপনা না রাখার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ওই দূরত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা থাকলেও তা উচ্ছেদে প্রশাসনের কোন তৎপরতা নেই। কিন্তু কোন ধরণের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রতিবারই ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পূনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করার দাবি ব্যবসায়িদের।

গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের বেলাভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ২০টি দোকান। এই পয়েন্টের সড়ক, ফুটপাত ও বালিয়াড়িতে বসানো হয়েছে ২০০ ভ্রাম্যমাণ হকার। এর দক্ষিণ পাশে কলাতলী পয়েন্টের ‘সি ক্রাউন হোটেলের’ সামনে তৈরি করা হয়েছে ৫টি দোকান। মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতের বেলাভূমিতে অন্তত ৩০টি রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দরিয়ানগর, হিমছড়ি, সালসা বিচ, পাটুয়ারটেকসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

সরকার কক্সবাজারের সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে। এই গেজেট অনুযায়ী সৈকতের বেলাভূমিতে স্থাপনা নিষিদ্ধ। কিন্তু আইন না মেনে দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সমুদ্রসৈকতের জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ উল্লেখ করে এ এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের জন্য বেলার পক্ষে নোটিশ দেয়া হলে একদিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় সরিয়ে নেয়ার নিদের্শ দেয়া হল।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy