সীমান্তে ‘ফেলানী’ হত্যার ১৪ বছর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রমের সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ১৪

2025-01-07T14:35:24+00:00
2025-01-07T14:35:24+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সীমান্তে ‘ফেলানী’ হত্যার ১৪ বছর আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ২:৩৫ পিএম   (ভিজিট : ৪৫১)
X

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রমের সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ১৪ বছরের কিশোরী ফেলানী। তার লাশ কাঁটাতারে সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ঝুলে ছিল। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর লাশ আলোড়ন তুলেছিল দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে। 

‘আগে যে সরকার ছিল তারা অনেক আশা দিছে। আমার মেয়ের বিচার করবে, আমাদের পরিবারের ভরণপোষণ দেবে, সন্তানদের পড়াশোনা করালে চাকরি দেবে। কিন্তু আইজ পর্যন্ত সরকারের একজন লোকও আসে নাই, মেয়ে হত্যার বিচারটাও পাই নাই। এখন তো নতুন সরকার আসলো। এখন যদি বিচারের ব্যবস্থাটা করে। আমি চাই এই সরকার যেন আন্তর্জাতিক আদালতে ফেলানী হত্যার বিচারের ব্যবস্থা করে।এটাই এই সরকারের কাছে আমার দাবি।’

হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হলেও বিচার পায়নি পরিবার। এখন বিচার চেয়ে বর্তমান সরকারের কাছে এভাবেই দাবি জানালেন তার মা জাহানারা বেগম। ন্যায়বিচার নিয়ে হতাশার তলানিতে পৌঁছেও নতুন সরকারের কাছে নতুন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন জানান এই মা।

ফেলানীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারের অভাব এবং নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জাহানারা বেগম বলেন, ‌‘প্রত্যেক বছর মৃত্যুবার্ষিকী আসলে টিএনওর কাছে যাই, ডিসির কাছে যাই। কিন্তু দুই বছর থেকে কোনও সাহায্য পাই না। আমার বাচ্চাগুলাকে কষ্ট করে পড়াশোনা করাইছি। কিন্তু চাকরি নাই। সরকার যেন আমার ছেলের জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়। ছোট চাকরি হলেও যেন দেয়। তাহলে অন্তত জীবনের বাকি দিনগুলা আমরা ভালোভাবে বাঁচতে পারবো।’

কী ঘটেছিল সেদিন
মূলত জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলােনীটারী গ্রামের দরিদ্র নূরুল ইসলাম পেটের তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতে। পরিবার নিয়ে তিনি থাকতেন ভারতের বঙ্গাইগাও এলাকায়। নূরুল ইসলামর বড় মেয়ে নিহত ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশে ২০১১ সালে নিজ দেশে আসার জন্য ওই বছরের ৭ জানুয়ারি ভোর ৬টার দিকে ভারতের কাঁটাতার বেয়ে আসতে থাকে সে। 

দালালের মাধ্যমে ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার টপকে পার হয় ফেলানীর বাবা। পরে ফেলানী কাঁটাতার পার হওয়ার সময় বিএসএফর গুলিতে বিদ্ধ হয় সে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আধা ঘণ্টা ধরে কাঁটাতারের ওপরই ছটফট করতে থাকে সে। পরে সেখানে ঝুলন্ত অবস্থাতেই নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশােরী ফেলানীর।

এরপর সকাল পৌনে ৭টা থেকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা ফেলানীর নিথর দেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তােলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালর ১৩ আগষ্ট ভারতের কােচবিহার জেনারেল সিকিউরিটি ফাের্সেস কাের্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়।





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy