শ্রীমঙ্গলে ১১ কোটি টাকার করলা উৎপাদনের সম্ভাবনা

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

সারাবাংলা

শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের একটি গ্রাম পারের টং। ইতোমধ্যে এই গ্রামটি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে। চলতি মৌসুমে

2025-04-09T20:04:30+00:00
2025-04-09T20:04:30+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
শ্রীমঙ্গলে ১১ কোটি টাকার করলা উৎপাদনের সম্ভাবনা
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:০৪ পিএম   (ভিজিট : ১৪০)
X

শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের একটি গ্রাম পারের টং। ইতোমধ্যে এই গ্রামটি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে। চলতি মৌসুমে করলা উৎপাদন করে উপজেলায় সারা ফেলেছে। এই মৌসুমে ১১ কোটি টাকার করলা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর জানান, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় করলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৫০ মেট্রিকটন। এর মধ্যে শুধু পারের টং গ্রামেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন। সমগ্র উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে শুধু পারের টং গ্রামেই  ২০৫ হেক্টরে করলার চাষ হয়েছে। যা থেকে ১১ কোটি টাকার করলা উৎপাদন হবে বলে স্থানীয় কৃষি অফিস আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এর মধ্যে শুধু পারের টং গ্রামেই উৎপাদন হবে ৯ কোটি টাকার করলা। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, এবার পারের টং গ্রামে করলার বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। জমির পরিমাণও বেড়েছে। বলা যায় এই গ্রামে করলা চাষে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুকুর রহমান জানান, আজ থেকে কয়েক বছর আগে কৃষি অফিসের পরামর্শে গ্রামের কৃষকরা শুরু করেন করলা চাষ। করলা চাষ করে পারের টং গ্রামের কৃষকরা আশাতীত সফলতা পান।  

করলা চাষিরা জানান, গত কয়েক বছরের মতো এবারও গ্রামটিতে করলার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দামও মিলছে বেশি। বাম্পার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় পারের টং গ্রামের কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। বেশিরভাগ কৃষকই এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। করলা চাষ সফল হওয়ায় পারের টং গ্রাম এখন করলা গ্রাম হিসেবে উপজেলায় পরিচিত হয়ে উঠেছে। 

সরেজমিন শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায়  ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আশিদ্রোন ইউনিয়নের পারের টং 'করলা গ্রাম'-এ গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বিশাল এলাকাজুড়ে  যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু করলা বাগান আর করলা বাগান। চারিদিকে সবুজের সমারোহ। করলার মাচাংয়ের নিচে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুঁলে আছে করলা। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। 

পারের টং গ্রামের করলা চাষি নুর মিয়া বলেন, আমি প্রায় ১২ বছর পূর্বে পারের টং গ্রামে করলা চাষ শুরু করি। এরপর থেকে একের পর এক করলা বাগান গড়ে ওঠে। বর্তমানে পারের টং গ্রামে প্রায় ২০০ চাষি করলার চাষ করছেন। পারের টং গ্রামে করলা বিক্রির জন্য একটি কালেকশন পয়েন্ট গড়ে ওঠেছে। কাক ডাকা ভোর থেকেই এখানে কৃষকরা করলা নিয়ে আসেন। ঢাকা, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, সিলেট, কুমিল্লা প্রভৃতি স্থান থেকে পাইকাররা করলা কিনে গাড়ি করে নিয়ে যান। 

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুকুর রহমান বলেন, পারের টং গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই এখন করলা চাষি। করলা চাষ করে একদিকে গ্রামের চাষিরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন তেমনি যাদের জমি নেই তারাও করলা জমিতে কাজ করে নিজেদের অভাব দূর করে স্বচ্ছলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।  






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy