
X
খুলনায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব মহাসমারোহে উদযাপিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের ৫ হাজার ২৫১তম জন্মতিথি উপলক্ষে মহানগর পূজা পরিষদের উদ্যোগে শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় নগরীর ধর্মসভাস্থ গোলকমনি শিশু পার্কে আলোচনা সভা ও উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নগর সংর্কীত্তন বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, থানা কমিটি, মন্দির কমিটি উৎসবমুখর পরিবেশে বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনি, শ্রীকৃষ্ণের প্রতিকৃতি, ডিসপ্লে সহকারে মহাসমারোহে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গোলকমনি শিশুপার্কে এসে শেষ হয় এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এছাড়া রাত ৮টায় স্যার ইকবাল রোডস্থ আদি কালীবাড়ীপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর কল্যাণে সমবেত প্রার্থনা ও রাত ৯.০১ মিনিটে শ্রীশ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ- কমিশনার (দক্ষিণ) সুদর্শন কুমার রায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিবৃন্দ। মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু।
এছাড়া জেলা পুজা পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব দিবস উদযাপিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিন শনিবার বিকাল ৩টায় নগরীর শীতলাবাড়ি মন্দির থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি'র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও র্যালির শুভ সুচনা করেন খুলনা সেবাশ্রম সংঘের অধ্যক্ষ বিপ্রানন্দজিৎ মহারাজ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আলী আজগর লবী, বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাডঃ শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। এছাড়া পুজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, শ্রীগুরু সংঘ, মতুয়া মহাসংঘ, খুলনা ব্রহ্মন সংসদ, মহানাম সেবক সংঘ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ এবং খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আওতাধীন ৯টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভা পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং খুলনা জেলা পূজা পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা মন্ডলীর নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
একইভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসা বাড়িতেও নানা আয়োজনে পূজিত হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন শ্রীকৃষ্ণের আরাধনার মাধ্যমে এই জগতে সুখ শান্তি বিরাজ করবে, একই ভাবে মানুষে মানুষের সম্প্রীতি আরো সুদৃঢ় হবে।