কুড়িগ্রামবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন তিস্তা নদীর ওপর মওলানা ভাসানী সেতু চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়ার রাতেই অন্ধকার হয়ে পড়েছে। কারণ সেতুতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া তারের প্রায় ৩১০ মিটার মাটি খুঁড়ে নিয়ে গেছে চোরেরা।
আজ শুক্রবার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, “কে বা কারা সেতুর হরিপুর পয়েন্ট থেকে সংযোগ নেওয়া বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে গেছে। এ কারণে সেতুটি উদ্বোধন হওয়ার পর রাতে ল্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো জ্বলেনি।”
তিনি আরও বলেন, “পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে কাজ চলমান আছে। দুই-একদিনের মধ্যে সেতুর ল্যাম্পপোস্টগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হবে।”
সুন্দরগঞ্জের হরিপুরঘাটে তিস্তার ওপর এ সেতুর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মোট ৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের এ সেতুটি দেশের ইতিহাসে এলজিইডির সর্ববৃহৎ প্রকল্প।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, “বুধবার রাতে সেতুর ল্যাম্পপোস্টগুলোতে বাতি জ্বলেনি। পরের দিন বৃহস্পতিবার তা নিয়ে অনুসন্ধানে শুরু হলে দেখা যায় সেতুর হরিপুর পয়েন্ট থেকে সংযোগ নেওয়া বৈদ্যুতিক তার দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়ে গেছে।”
সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই মমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলমান আছে।
এদিকে উদ্বোধনের রাতেই সেতু থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।