প্রকাশ: রোববার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৯:১৭ পিএম (ভিজিট : ১৮৭)

X
নিত্যপণ্যের দাম বিশ্ববাজারে কমলেও তার প্রভাব পড়েনি দেশের বাজারে। চাল, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমেনি; বরং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বাজারে এখন বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম চড়া। এতে প্রতিদিনের কেনাকাটায় হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বাজারে একই পণ্যের দাম তুলনামূলক অনেক কম।
চালের দাম দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমূল্যে স্থির। বর্তমানে ৮০ টাকার নিচে সরু চাল মিলছে না। মোটা চালের দামও ৬০ টাকার ওপরে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে দরপতন ও দেশে ভালো ফলন সত্ত্বেও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে চালের বাজারে স্বস্তি আসছে না।
একজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “যদি সুষ্ঠু তদারকি হতো, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। এখন তো সবকিছুই লোক দেখানো তদারকি।”
একই চিত্র ডিমের বাজারেও। বর্তমানে প্রতি ডজন মুরগির ডিম কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকার বেশি দামে। অথচ পার্শ্ববর্তী শ্রীলঙ্কায় ডিমের ডজন ১৩৮ টাকা, পাকিস্তানে ১২৮ টাকা আর ভারতে ১১০ টাকার আশপাশে। শ্রীলঙ্কায় এক কেজি চিনির দাম ৯৭ টাকা, পাকিস্তানে ৭৭ টাকা আর ভারতে ৬৭ টাকা; অথচ দেশে তা ১২০ টাকা কেজি।
এসব দেশের তুলনায় ডাল ও ভোজ্যতেলের দামও বাংলাদেশে বেশি। বাজারে সব মৌসুমের সবজি পাওয়া গেলেও সেগুলোও নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
আরেকজন ক্রেতা বলেন, “সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া— দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকুক। আমরা যেন স্বাচ্ছন্দে বাজার করতে পারি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে চিনি, ভোজ্যতেল, ডালসহ বহু পণ্যের বাজার গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প উদ্যোগ না নিলে ভোক্তারা আরও ভোগান্তিতে পড়বে।