প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৩৪ পিএম (ভিজিট : ১০৭)

X
গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে জুলেখা আক্তার রুনা (২২) নামে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রীকে জেল হাজতে প্রেরণ ও তার পরিবারের সদস্যকে হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পুবাইলের মাজুখান এলাকায় তার নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ভুক্তভোগী রুনার বড় ভাই সজল সিকদার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার বোন জুলেখা আক্তার রুনা উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। সে পড়ালেখার পাশাপাশি মাজুখান বিউটি প্রডাক্টস বিডি নামের একটি প্রসাধনী বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৫ বছর যাবত সুনামের সাথে চাকুরী করে আসছিল। বিগত ৬ মাস পূর্বে থেকে কোম্পানীর মালিক রেজাউল করিম (৩৬) আমার বোনকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করে আসছিল।
আমার বোন তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হয়ে সম্মান রক্ষার্থে চাকরি ছেড়ে দেয়। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার স্ত্রীর অনুরোধে পূনরায় চাকরি নেওয়ার পর আবারও প্রতিষ্ঠানের মালিক রেজাউল আমার বোনকে কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ক্ষতি করার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। একপর্যায় আমার বোন গত ১৬ আগস্ট দুপুরের দিকে বাসায় এসে কান্নাকাটি শুরু করে।
পরে সন্ধ্যায় আমার বোনের সহকর্মী মোঃ রুবেল প্রতিষ্ঠানের মালিক রেজাউল, রায়হানসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জন আমাদের বাসায় এসে বোনের ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনসহ আমার বোন ও মাকে থানায় নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করে। বিষয়টি নিয়ে থানার ওসি, স্থানীয় কাউন্সলর ও এলাকার রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের মাধ্যমে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সমাধানের সময় দেওয়া হয়। পরে ১৯ আগস্ট বিকেলে ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে আমার বোন রুনাকে থানায় ডেকে নিয়ে ২০ আগস্ট তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জেলে প্রেরণ করে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিউটি প্রডাক্টস বিডির মালিক মো: রেজাউল করিম বলেন, অভিযুক্ত রুনা আমার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় বিকাশ লেনদেনের মাধ্যমে যে পরিমান টাকা আত্মসাৎ করেছে তা দেখতে পেয়ে আমি নিজেও বিস্মিত হয়েছি। পরবর্তীতে সকল তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে পূর্বাইল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামি রুনা তার মায়ের যোগসাজশে বাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। এমন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা নিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।