প্রকাশ: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৫০ পিএম (ভিজিট : ১৬০)

X
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর ৫০ শতাংশই ভুতুরে ও রাজনৈতিক উপকারভোগী রয়েছে। তারা প্রকৃত গরিব নয়। হয় ভুতুরে, না হয় রাজনৈতিক উপকারভোগী। কিছু মানুষ নাকবরাবর পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁরা সামান্য ঢেউ এলেই তলিয়ে যাবেন। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কোনোভাবে শুধু জীবনধারণ করে যাচ্ছেন তাঁরা। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা জাতীয় পর্যায়ে একটি জনসংখ্যা রেজিস্টার তৈরির কাজ করছি। এটা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জানা যাবে কারা দরিদ্র এবং কোন পর্যায়ের দরিদ্র।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন-মৈত্রী সম্মেলনে কেন্দ্রে ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স অন সোশ্যাল প্রোটেকশন ২০২৫’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। এছাড়া অতিথি ছিলেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন, জনপ্রশাসন সিনিয়র সচিব মোখলেস-উর রহমান, মন্ত্রী পরিষদের সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব জাহেদা পারভীন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রতিনিধি স্টেফেন লিলার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান মিচেল ত্রেৎজা, ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পপকি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব মো. খালেদ হাসান।
সেমিনারে জানানো হয়, কয়েকটি বাজেটের প্রবণতা এবং পরিবর্তনের তুলনা করেছে, যেখানে বেশিরভাগই ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাথে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনা করা হয়েছে। বাংলাদেশে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষা ক্রমবর্ধমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত দারিদ্র্য, বৈষম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং জলবায়ু ঝুঁকির মুখে, সামাজিক সুরক্ষা মানব উন্নয়ন, স্থিতিস্থাপকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ প্রদান করে। সরকার গত দশক ধরে এই ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট এই লক্ষ্যগুলির প্রতি অব্যাহত প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে রয়েছে সামাজিক সহায়তা, সামাজিক বীমা, শ্রমবাজার কর্মসূচি এবং একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে প্রদত্ত পরিষেবা সহ বিস্তৃত উদ্যোগ। এই কর্মসূচিগুলি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে। বর্তমান পদ্ধতিটি জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশল দ্বারা পরিচালিত, যা সুরক্ষার একটি জীবনচক্র-ভিত্তিক মডেলের রূপরেখা তৈরি করে এবং উন্নত বিতরণ প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহিতা ব্যবস্থার উপর জোর দেয়।
এই বছরের জাতীয় বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার জন্য মোট বরাদ্দ ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। যা মোট মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।