
X
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, তবে আমরা যাত্রাপথেই রয়েছি। সামাজিক নিরাপত্তা কোনো দয়া নয়, এটা অধিকার। মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
তিন দিনব্যাপী সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক জাতীয় সম্মেলন আজ শেষ হয়।
শারমিন এস. মুরশিদ সামাজিক সুরক্ষাকে ভিত্তি করে অধিকার-ভিত্তিক পদ্ধতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা একটি নতুন সামাজিক চুক্তি তৈরি করি যেখানে সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়ন একসাথে চলে, প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ, সম্মানিত এবং স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আবদুর রশিদ।
সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ডঃ শেখ আবদুর রশিদ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যখন আমাদের জনগণের একটি বৃহৎ অংশ অসহায় থাকে, তখন আমরা কেউই সত্যিকার অর্থে বলতে পারি না যে আমরা নিরাপদ। ন্যায়বিচার ছাড়া প্রবৃদ্ধি মোটেও প্রবৃদ্ধি নয়। আমরা ২০২৬-পরবর্তী জাতীয় কৌশল গঠনে এই সুপারিশগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ দেখাবে যা সত্যিকার অর্থে কাউকে পিছনে ফেলে না।
তিন দিনের আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খালেদ হাসান। তিনি বলেন, তিন দিনের আলোচনায় ২০১৫ সালে গ্রহণ করা জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং আগামী বছর নতুন কৌশলপত্র কেমন হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
ভবিষ্যতের কৌশলপত্র নিয়ে মো. খালেদ হাসান আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বৈষম্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গিনি সহগের হার প্রায় ৫০ শতাংশ। তাই আমাদের লক্ষ্য হবে বৈষম্য কমানো। এ জন্য জীবনচক্রভিত্তিক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করব। যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত নিরাপত্তা থাকবে। যেখানে কর্মহীন নারী এবং শিশুদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
এছাড়া জাতীয় সম্মেলনে- বাড়তে থাকা শহুরে দরিদ্রদের জন্য নতুন কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বক্তারা বলেন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার মতো বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করা উচিত। এছাড়া পথশিশুদের শুমারি করে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণারও সুপারিশ করা হয়।