ক্লাসে ঢুকে অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রীকে পেটালেন বৈষম্যবিরোধী নেতা

রংপুর ব্যুরো

সারাবাংলা

উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর কমিটির (বিলুপ্ত) সাবেক আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমদ ইমতি। এবার

2025-09-23T21:39:36+00:00
2025-09-23T21:39:36+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ক্লাসে ঢুকে অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রীকে পেটালেন বৈষম্যবিরোধী নেতা
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৯ পিএম   (ভিজিট : ২৩৭)
X

উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর কমিটির (বিলুপ্ত) সাবেক আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমদ ইমতি। এবার তার বিরুদ্ধে বেত দিয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ সেপ্টেম্বর রংপুর নগরীর হারাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে। তবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই নেতা। কিন্তু ১৮ দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়।

মেট্রোপলিটন পুলিশের পরশুরাম থানার ওসি মাইদুল ইসলাম বলেন, ইমতিয়াজ আহমদ স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শাসন করেছিলেন। এ ঘটনায় একজন অভিভাবক অনলাইনে জিডি করেন। এরপর ওই বিদ্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, ইমতিয়াজ ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ৫ আগস্টের পর হঠাৎ বিশাল নেতা বনে যান। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর আহ্বায়ক হওয়ার পর তার ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় ছিলেন এলাকাবাসী। এই প্রভাব খাটিয়ে সব নিয়ম উপেক্ষা করে ছাত্র হয়েও হারাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদটি বাগিয়ে সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছিলেন তিনি।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ইমতিয়াজ বিদ্যালয়ে গিয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী ফেল করেছে শুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন। এরপর একটি বেত নিয়ে বিদ্যালয়ের তিন শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে অর্ধশত শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটান। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিদ্যালয়ের টিফিন শেষে ক্লাস চলছিল। এমন সময় ইমতিয়াজ মোটরসাইকেলে করে বিদ্যালয়ে গিয়ে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির কক্ষে যান। সেখানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের কাছে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল জানতে চান। যেসব শিক্ষার্থী ‘অকৃতকার্য’ হয়েছে, তাদের একে একে ডেকে বেত দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। ওই সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও কেউ তার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

এক শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘ইমতিয়াজ বড় নেতা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। কখন কার চাকরি খেয়ে ফেলেন, সেই ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করার সাহস পাইনি।’

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত ইসলাম ওই দিনের ঘটনা বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘টিফিনের পর ক্লাসে স্যারসহ আমরা সবাই ছিলাম। ক্লাস চলাকালে ইমতিয়াজ সাহেব একটা বেত নিয়ে ঢুকে বলতেছেন, কে কে ফেল করছো, দাঁড়াও। আমরা দাঁড়াইলাম। পরে একেকজন করে ডাকছে, আর বেত দিয়ে পিটিয়েছে। মেয়েদেরও তিনি পিটিয়েছেন। বেত দিয়ে পেটানোতে শরীরে বিভিন্ন অংশ লাল হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, নবম শ্রেণির ক্লাসে ঢুকে পেটাতে পেটাতে বেত ভেঙে ফেলেছে।’

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সীমান্ত শীল ও শিমুল শর্মা বলেন, ‘বই দেওয়া হয়েছিল গত এপ্রিলে। ক্লাস হয়েছিল অল্প দিন। আবার প্রশ্ন ছিল নতুন। এ কারণে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বেশি কঠিন ছিল। বই দেরিতে দেওয়া ও পাঠ্যক্রম নতুন সৃজনশীল হওয়ায় ক্লাসের ৩ ভাগের আড়াই ভাগ ফেল করেছিল।’





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy