ফতুল্লায় ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, আজ বুধবার সকাল থেকে ফতুল্লায় চারটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বছরের শিশু আব্দুল্লাহ, দুপুরে ইদ্রিস নামের এক মাঝির লাশ নদীতে ভেসে ওঠে। অপর এক ঘটনায় ঋতু নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে এবং পশ্চিম লামাপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে গার্মেন্টেসের এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী ওয়াহিদুজ্জামান রাজিবের (৩৬) বিকৃত পচা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ফতুল্লার ধর্মগঞ্জে ইজিবাইকের চাপায় চার বছরের শিশু মো. আব্দুল্লাহ ও চালক সাগর গুরুতর আহত হয়। পরে শিশু আব্দুল্লাহকে দ্রুত খানপুর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লা বাজার সংলগ্ন যমুনা তেল ডিপোর ঘাটে মাঝি ইদ্রিস আলী বেপারীর (৪৫) মরদেহ ভেসে ওঠে। তিনি দুইদিন আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শ্যামবাজার তেলঘাট এলাকায় নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হন। শরীয়তপুরের সখীপুরের বাসিন্দা ইদ্রিসকে উদ্ধারে পাগলা নৌ-পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলম দলবল নিয়ে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে ফতুল্লার হাজীগঞ্জ এলাকায় ঋতু নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয়রা জানান, দুই মাস আগে হাজীগঞ্জ এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন ঋতু ও মাসুম মিয়া নামের ওই দম্পতি। প্রায় তিন বছর আগে প্রেমের সূত্র ধরে তাদের বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ থেকে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহত ঋতুর বাবা কাশেম মিয়ার দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এছাড়াও আজ দুপুরে পশ্চিম লামাপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ভাড়াটিয়ার বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে গার্মেন্টেসের এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী ওয়াহিদুজ্জামান রাজিবের (৩৬) বিকৃত পচা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিন দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। এ মুহূর্তে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।