শ্রীপুরে একটি রিসোর্টে নাটকের শুটিংয়ের চুক্তিতে আসা এক অভিনয়শিল্পী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নাট্যনির্মাতা ও তার দুই সহযোগী ওই শিল্পীর ওপর নির্যাতন চালান। নির্যাতনের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেন অভিযুক্তরা।
গত রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের উত্তর পেলাইদ এলাকায় ‘রাস রিসোর্টে’ এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার চারদিন পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ওই শিল্পী শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন মো. নাসির (৩৫), মো. বাবর (৩২) ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত মো. নাসির নাট্যনির্মাতা ও মো. বাবর তার সহকারী।
নির্যাতনের শিকার তরুণীর সন্দেহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রিসোর্টটিরই কেউ। নির্যাতনের শিকার মেয়েটি (২৫) অভিনয়শিল্পী ও মডেল।
ভুক্তভোগী নারী জানান, চার থেকে পাঁচ মাস আগে পূবাইলে শুটিং চলাকালে নাট্যনির্মাতা নাসির তার মোবাইল নম্বর নেন। এরপর থেকে তাকে নিয়মিত ফোন করতেন নাসির। একসঙ্গে নাটকের কাজও করেছেন।
তিনি জানান, গত রবিবার শুটিংয়ের কথা বলে তাকে বাসা থেকে নিয়ে যান নাসির। গভীর রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার উত্তর পেলাইদ এলাকায় রাস রিসোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে রাত প্রায় ২টার দিকে একটি কক্ষের ভেতর আটকে নাসির, তার সহকারী বাবর ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি পালাক্রমে তার ওপর নির্যাতন চালান।
অভিনেত্রী দাবি করেন, নির্যাতনের সময় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে রিসোর্টটির মালিকপক্ষের লোক বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরদিন তার ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নিয়ে রিসোর্ট থেকে তাকে বের করে দেন তারা। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন তিনি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি শনাক্তসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।