প্রকাশ: রোববার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:১৩ পিএম (ভিজিট : ৫০৬)

X
পাহাড়ি কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতার’ ব্যানারে অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত তিন জন নিহত ও চার জন আহত হয়েছেন। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এখনও হতাহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। সন্ধ্যায় তিন জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবিব পলাশ।
তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় গুইমারায় গুলিতে তিন জন নিহতের খবর পেয়েছি আমরা। তাদের লাশ খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালের মর্গে আছে। তবে তারা কার গুলিতে কীভাবে মারা গেছেন, বিস্তারিত জানা যায়নি। এ ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’
খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাবের বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় গুইমারা থেকে তিন জনের লাশ এসেছে খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালে। তারা যুবক। লাশগুলো মর্গে রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্ত করা হবে। হাসপাতালে আরও চার জন চিকিৎসাধীন আছেন।’
এর আগে দুপুর ১টার দিকে গুইমারার রামেসু বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবরোধকারীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সড়ক অবরোধ করলে তাতে বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন অবরোধের সমর্থনকারীরা। খবর পেয়ে সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মাজহার হোসেন রাব্বানীসহ সেনাসদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে সেনাসদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়।
এ অবস্থায় সেনাসদস্যরা সেখান থেকে চলে এলে দুপুর ১টার দিকে রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়। এ সময় বাজারের পাশে থাকা কয়েকটি বসতঘরও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেছেন অবরোধকারীরা। এরই মধ্যে আগুন দেওয়ার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দোকানপাট জ্বলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মংসাজাই মারমা ও কংজরী মারমা জানান, অবরোধের সমর্থনে তারা খাদ্যগুদামের সামনের সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর গুলি করেন। গুলির পরপরই লোকজন ভয়ে দিগবিদিক পালিয়ে যান। এরপর ২০-২৫ জন লোক এসে রামেসু বাজার ও বসতবাড়ি লুটপাট করে এবং যাওয়ার সময় আগুন ধরিয়ে দেন। এসব লোকের সঙ্গে মুখোশ পরা লোকও ছিল। দোকানপাট ও বসতবাড়ির সঙ্গে অনেকগুলো মোটর সাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।