বোয়ালমারীতে পরিচিত এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে স্কুলছাত্রী। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পরমেশ্বরদী গ্রামের একটি মেহগনি বাগানে তিনজন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।
পরদিন মেয়ের দাদা বাদী হয়ে দাউদ বিশ্বাস (২৩) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৯(৩)/১০ ধারায় মামলা করেন। মামলার দুই ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দাউদ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে।
ধর্ষক দাউদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর আসামি বোয়ালমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের রাজ্জাক শেখের ছেলে মো. আতর আলী শেখকে (২৩) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে দাউদকে এবং পরে আতর আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে জেলার বোয়ালমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের ওসমান বিশ্বাসের ছেলে দাউদ বিশ্বাসের (২৩) সাথে পরিচয় হয় সালথা উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে। দাউদ তেলজুড়ি এলাকায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান ওই কিশোরীকে।
এরপর গত শুক্রবার আমন্ত্রণ পেয়ে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যার পর কিশোরীকে পরমেশ্বরদী গ্রামের ভদ্র মহাশয়ের মেহগনি বাগানে নিয়ে তিনজন ধর্ষণ করে। ওই ছাত্রী রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিরবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে ফোনে টিকটকে দাউদের মোবাইল নম্বর পায়। দাউদকে ফোন দিলে প্রথম ফোন কেটে দেয়।
পরে ফোন করে জানায়- আধাঘণ্টার মধ্যে আপনাদের মেয়েকে পেয়ে যাবেন। সে অনুযায়ী মেয়ের বাড়ির লোকজন তেলজুড়ি আসার পথে ভ্যানে মেয়েকে পেয়ে সরাসরি বোয়ালমারী থানায় চলে যায়।
কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠায় পুলিশ। পরদিন মেয়ের দাদা বাদী হয়ে দাউদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা করেন।