
X
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা ছিন্নমূল আবাসিক ও আশপাশের জমির নিয়ন্ত্রণ নিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইয়াছিন গ্রুপের সঙ্গে রোকন-গফুর গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ রোকন-গফুর গ্রুপের হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা বাহিনী অস্ত্রসজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়৷
এ ঘটনায় এক সন্ত্রাসী গণপিটুনিতে মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করলেও এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত তার পরিচয় জানা যায়নি৷ এছাড়া চট্টগ্রাম শহর থেকে সরোয়ার প্রকাশ বাবলা বাহিনীর সাথে জঙ্গল সলিমপুর যাওয়া পারভেজ নামের এক যুবকের কোন হদিস না পাওয়ার কথা জানিয়েছে তার স্বজনরা৷ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপের অন্তত ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে জানা গেছে।
তবে এই ঘটনায় নিজের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন সাবেক ইউপি মেম্বার ও যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন৷ জঙ্গল সলিমপুর সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিপূর্বে একাধিক ঘটিনায় নিজের নাম উঠে আসাকে ষড়যন্ত্র মূলক অপপ্রচার বলেও দাবি করেন রোকন মেম্বার৷ অন্যদিকে ইয়াছিন গ্রুপের প্রধান ইয়াছিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি৷
তবে এই প্রতিবেদককে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইয়াছিন বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে আধিপত্য বিস্তার করছে। রোকন মেম্বার ও গফুর একজোট হয়ে ইয়াছিনের কাছ থেকে জায়গার নিয়ন্ত্রন নিতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে৷ এই উভয় গ্রুপের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাড়াও একাধিক ছোট ছোট গ্রুপ বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রন করে৷ আর নিয়ন্ত্রন মানেই ঘর, দোকান ভাড়া আদায় এবং জমি কেনাবেচা করা৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলাকে ভাড়া নিয়ে গেছে রোকন মেম্বার। এতে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ঘটনার পরে রোকন বাহিনীর অনেক সদস্য নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা- নিখোঁজ যে কয়েকজন রয়েছে তারা রোকন বাহিনীর সদস্য।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর আলিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছে- জাবেদ (৩৮), জাকির (৪৮), তানভীর (২৩), সিরাজুল ইসলাম (৪৩), ফজলুল করিম, ইসমাইল হোসেন বাবু (৩০) জাহিদুল ইসলাম (১৯), সৌরভ বড়ুয়া (১৭) মো. পারভেজ (২০), নুরুল আলম (৪০), শুক্কুর আলম (২২), রায়হান (১৮), শামীম (২৯)। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলে জানা গেছে৷
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে রোকন-গফুর গ্রুপের হয়ে বিপুল সংখ্যক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জঙ্গলছলিমপুর আলিনগর এলাকা দখল করতে যায়। এই গ্রুপটির সাথে চট্টগ্রাম শহর এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাহিনীর ক্যাডাররা অংশ নেয়৷ অপর দিকে আগে থেকে আলিনগর দখলে থাকা ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা তাদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে উভয় গ্রুপের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে একটি গ্রুপ পিছু হটে গেলেও তাদের বেশ বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য ইয়াছিন বাহিনীর হাতে আটকা পড়ে৷ আটককৃতদের একটি দোকানে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয় বলে সূত্রটি জানিয়েছে৷
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনা কারা কিভাবে ঘটিয়েছে তা বিস্তারিত অবগত নন বলে জানান৷ তবে জঙ্গল ছলিমপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানান। আহতদের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।