
X
শিল্প নগরী টঙ্গীর যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক। জাতীয় এই মহাসড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন রাজধানীতে যাতায়াত করে কয়েক লক্ষ মানুষ। ময়মনসিংহ বিভাগের ছয়টি জেলা, নরসিংদী, সিলেট বিভাগ ও উত্তরবঙ্গের ১৬ টি জেলার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রুট এই মহাসড়ক।
রাজধানীর প্রবেশদ্বার খ্যাত এই মহাসড়কের টঙ্গী বাজার অংশের ২৬০ মিটার সড়কের দীর্ঘদিন যাবৎ বেহাল দশা।
রক্ষণাবেক্ষণের দ্বায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও স্বেছাচারিতায় মহাসড়কের এই অংশটি অনেকটাই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরেছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাবী মহাসড়কের এই অংশটি বিআরটি প্রকল্পের আওতাধীন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে গাজীপুরের শেষ ভাগ টঙ্গী বাজার অংশ। এই মহাসড়কের টঙ্গীবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে তুরাগ নদের বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত দৈর্ঘ ২৬০ মিটার যা অনেকটাই ব্যবহার অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টি হলে পায়ে হেঁটে যাওয়ারও উপায় থাকে না। শতাধিক খানাখন্দে ভরা এই অংশটিতে প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা বিকল হচ্ছে যানবাহন। বাধ্য হয়ে উল্টো পথে চলাচল করছেন এই সড়ক ব্যবহারকারীরা এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
কহর দরিয়ার পার খ্যাত টঙ্গীর বৃহত্তম প্রাচীন বাজার যা টঙ্গীবাজার নামে পরিচিত সেটিরও অবস্থান এই মহাসড়কের পাশে তুরাগ তীরে। দৈনিক অর্ধলক্ষ মানুষ এই বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বেচা কেনা করে থাকেন। এই বাজারে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম মহাসড়কের এই খানাখন্দে ভরা অংশ। দীর্ঘদিন যাবৎ সড়কের এমন বেহাল দশায় ব্যপক লোকসান গুনছেন কয়েক হাজার ব্যাবসায়ী। ভোগান্তিতে পরছেন বাজারে আগত ক্রেতারা।
স্থানীয়দের দাবী বিআরটি ফ্লাইওভার নির্মাণ হওয়ার পর থেকে এই সড়কটি আর সংস্কার করা হয়নি। নদী পারাপারের জন্য অস্থায়ী বেইলি ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কার ও নতুন স্থাায়ী সেতু নির্মাণের দাবীতে দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন করেও কোন সুরাহা মিলছে না।
ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ বলেন, কয়েক বছর যাবৎ মহাসড়কের এই অংশটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মালামাল নিয়ে আসতে গেলে প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে যায়। অটোরিকশা বা ইজিবাইক দিয়ে আনতে গেলে উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই বাধ্য হয়ে বাজারের ভিতরের শাখা সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুইটাই বেশী খরচ হয়।
ব্যবসায়ী নরুল মনিরের দাবী, বৃহত্তর উত্তরা, উত্তরখান, তুরাগসহ টঙ্গীর আশপাশের মানুষ এই বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতেন। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় এখন এই বাজারে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে। ঐতিহ্যবাহী বাজারটি তার জৌলুশ হারাতে বসেছে। এতে পাইকারি ও খুচরা ব্যাবসায়ীদের চরম ক্ষতির মুখে পরতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিআরটি প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, যেহেতু প্রকল্পের মেয়াদকাল উত্তির্ণ হয়ে গেছে তাই প্রকল্পের আওতায় কাজ করার সুযোগ আপাতত নেই। তবে জনদূর্ভোগ লাগবের জন্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্নয় করে টঙ্গীবাজার বাস স্ট্যান্ড থেকে রাজধানীর আব্দুল্লপুর পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য বিকল্প একটি প্রস্তাব অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু হবে।