খুলনায় সাত বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যা

খুলনা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

৭ বছরের শিশু জিসানকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিবেশী ফয়সাল। এরপর লাশ বস্তাবন্দী করে গুম করার সহযোগীতা

2025-10-12T21:00:33+00:00
2025-10-12T21:00:33+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
খুলনায় সাত বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যা
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:০০ পিএম   (ভিজিট : ১৮৮)
X

৭ বছরের শিশু জিসানকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিবেশী ফয়সাল। এরপর লাশ বস্তাবন্দী করে গুম করার সহযোগীতা করে ফয়সালের বাবা জিএম হান্নান এবং মাতা মাহিনুর বেগম। আদালতে এই তিনজন আজ রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে এ কথা উল্লেখ করেন। এর আগে আজ সকালে শিশু জিসানের হত্যার সঙ্গে জড়িত ফয়সালের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুপ্ত এলাকাবাসী। বিক্ষুদ্ধ জনতা বসতবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। 

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছরের শিশু জিসানের হত্যার সঙ্গে জড়িত ফয়সালের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুপ্ত এলাকাবাসী।

আজ রোববার বেলা আনুমানিক সোয়া ১১ টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবং মন্ডল মিলের শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ফয়সালের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এদিকে নিহত জিসানের পিতা মোঃ আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে আজ রোববার ফয়সালসহ তার পিতা-মাতাকে আসামি করে দিঘলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার ফয়সাল (২৫), তার পিতা জিএম হান্নান (৫২), মাতা মাহিনুর বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে।

দিঘলিয়া থানা সেকেন্ড অফিসার এসআই লিটন কুমার মন্ডল বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু জিসানের ময়না তদন্ত শেষে তার মৃতদেহ পিতার গ্রামের বাড়ি শেরপুরে দাফন করা হয়। 

মামলার তদন্ত এই কর্মকর্তা জানান, সকালে হত্যাকান্ডের ব্যপারে তারা তিনজন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিতে চাইলে দিঘলিয়া থানা পুলিশ দুপুরের পর তাদের আদালতে নিয়ে আসে। সিনিয়র জুডিশিয়ার ম্যাজিষ্ট্রে আদালত-১ এর বিচারক অমিত কুমার বিশ্বাস তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাদের তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকাল আনুমানিক তিনটার দিকে নিহত জিসান পার্শ্ববর্তী তার চাচার বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তখন ফয়সাল তাকে টেনে হিচড়ে তার বাড়িতে নিয়ে এসে দড়ি দিয়ে বেধে ফেলে। এরপর রান্না ঘর থেকে দা এনে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পাশের রুমে তার ফয়সালের মা ঘুমিয়ে ছিলেন। শিশুটির প্রথম চিৎকার শুনতে পাননি। পরেরবারের চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখেন ফয়সাল ওই শিশুটিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তখন তিনি স্বামীকে ফোন দিয়ে ডেকে আনেন। এরপর তিনজন মিলে লাশ বস্তায় ভরে গুম করার চেষ্টা করেন। 

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, স্বীকারোক্তিতে ফয়সাল বলেছে যে সে বিভিন্ন সময়ে ওই শিশুটিকে দ্বীনের রাস্তায় (আল্লাহর) রাস্তায় আসতে বলে। কিন্তু সে না আসায় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে হত্যা করেছে।

তবে সাত বছরের শিশু ধর্মের কি বোঝে এমন প্রশ্নর জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা আমাদেরও সন্দেহ হয়। অন্যকিছু, যেমন বলৎকার বা অন্য কোন কারণে হত্যা করা হতে পারে। সে বিষয়ে আমরা প্রাথমিক তদন্তে নোট দিয়েছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy