ভাড়া চাওয়ায় হাসান প্রামাণিক (২৭) নামে এক রিকশাচালককে তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন এক বিএনপি নেতা ও তার ছেলে। নির্যাতনের শিকার রিকশাচালক বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত মো. আব্দুর রহমান শেখ ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন।
রিকশাচালকের অভিযোগ, আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান শেখ বিভিন্ন সময় রিকশায় উঠে ভাড়া না দিয়ে চলে যান। গতকাল বুধবার আমার রিকশায় ওই নেতা উঠতে চাইলে নিতে অপরাগতা জানাই। এ সময় তাকে বলেছিলাম, ‘আপনি তো প্রতিদিন ভাড়া না দিয়েই চলে যান।’ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নেতার ছেলে রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আমাকে তুলে নিয়ে আদমপুর বাজারে তার দোকানের পেছনের কক্ষে আটকে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। পরে আমার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষ সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাসান প্রামাণিক। হাত-পা ও পিঠে জখমের চিহ্ন দেখিয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দেন হাসান। এ সময় তার পাশে বসে ছিলেন মা নিলুফা বেগম ও বাবা ইউসুফ প্রামাণিক।
ভুক্তভোগী হাসান বলেন, ‘আব্দুর রহমান মাঝেমধ্যে আমার রিকশায় উঠেন। কিন্তু ভাড়া দেন না। বুধবার উঠতে চাইলে আমি বলেছিলাম, “আপনি তো ভাড়া দেন না। ভাড়া না দিয়েই চলে যান। আজ নিতে পারবো না। আগের ভাড়া আগে দেন।” এই কথা পাশে থেকে তার ছেলে রফিকুল শুনেছিল। কিছুক্ষণ পর দুজন লোক মোটরসাইকেলে এসে বলেন, তোকে রফিকুলের দোকানে যেতে হবে, তখন আব্দুর রহমান এসে জোর করে আমাকে তাদের মোটরসাইকেলে উঠিয়ে দেন। এরপর রফিকুলের দোকান বন্ধ করে আমাকে কাঠ দিয়ে মারতে থাকে রফিকুল। তার পা জড়িয়ে ধরে মাফ চাইলেও মারতে থাকে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান বলেন, ‘ওই রিকশাচালক আমাকে একটি খারাপ কথা বলায় আমার ছেলে রাগে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পরে আমি নিজে চিকিৎসার জন্য খরচ দিয়ে এসেছি।’