শ্রীমঙ্গলের গ্র্যাণ্ড সুলতানে অফসিজন কাঁঠাল ফলনে বিস্ময়

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

সারাবাংলা

হেমন্তের নরম রোদ, শিশিরে ভেজা সকাল, মাঠে পাকা ধান আর গাছে ঝরে পড়া পাতার মায়া-এ সময় শ্রীমঙ্গলের গ্র্যাণ্ড

2025-10-22T20:09:29+00:00
2025-10-22T20:09:29+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
শ্রীমঙ্গলের গ্র্যাণ্ড সুলতানে অফসিজন কাঁঠাল ফলনে বিস্ময়
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:০৯ পিএম   (ভিজিট : ১৩৮)
X

হেমন্তের নরম রোদ, শিশিরে ভেজা সকাল, মাঠে পাকা ধান আর গাছে ঝরে পড়া পাতার মায়া-এ সময় শ্রীমঙ্গলের গ্র্যাণ্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ-এর বাগান যেন এক স্বর্গরাজ্যের চিত্র খুঁজে পায়। আর সেই বাগানের এক কোণে রয়েছে গাছটির শতাধিক ঝুলন্ত কাঁঠাল, যা হেমন্তকালেও পর্যটক ও স্থানীয়দের মুখে এক হাসি ফুটিয়ে দিচ্ছে।

অক্টোবরের শেষ দিকে কাঁঠালের এই অমৌসুমি ফলন দেখে সবাই অবাক। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছিলেন, আবার কেউ মজা করে বলছেন, ‘হেমন্তের কাঁঠাল-এও কি সম্ভব!’

রিসোর্টে আসা পর্যটকরা কাঁঠাল গাছের কাছে এসে থেমে যান। ছোটরা ফল গুনে আনন্দিত, কেউ আবার সেলফি তুলছেন গাছের নিচে। রিসোর্টের এক অতিথি বলেন, ‘প্রকৃতির এই চমক আমাদের হেমন্তকে আরও আনন্দময় করে তুলেছে। এখানে আসা যেন এক স্বপ্নের মতো।’

রিসোর্টের বাগান পরিচর্যাকারী  জানান, ‘গাছটি বহু বছর ধরে আছে। নিয়মিত সার, পানি ও যত্নের কারণে এটি এমন সময়ও ফল দিচ্ছে। প্রকৃতির এই উপহার সত্যিই আমাদের আনন্দ দিচ্ছে।’

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাঁঠালসহ কিছু গাছে অমৌসুমি ফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা এবং পরিচর্যার পার্থক্য এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি পরিবেশ অনুকূল থাকে এবং গাছের যত্ন ঠিকভাবে নেওয়া হয়, তাহলে এমন অমৌসুমি ফলন সম্ভব। এটি কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেয়।’

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের ফলন একদিকে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বিস্ময়, অন্যদিকে এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সঠিক পরিচর্যা এবং ধৈর্যের মাধ্যমে কৃষকরা এমন চমককে ব্যবসা বা পর্যটনের সুযোগেও রূপ দিতে পারেন।

রিসোর্টের জন্য এই কাঁঠাল গাছ এখন বাড়তি আকর্ষণ। পর্যটকরা শুধু খাওয়ার জন্য নয়, ছবি তোলার আনন্দের জন্যও এখানে আসছেন। স্থানীয় হোটেল ও গাইডরা বলছেন, ‘এ ধরনের আকর্ষণ শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরও প্রাণবন্ত করছে। বিশেষ করে হেমন্তে, যখন ধান পাকা, বাগান সাজানো, শিশিরে ভেজা সকাল-এগুলো সবই পর্যটকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অমৌসুমি ফলন প্রকৃতির এক আনন্দদায়ক বার্তা। এটি দেখায় যে সঠিক পরিচর্যা, যত্ন এবং ধৈর্যের মাধ্যমে প্রকৃতি আমাদের চমক দিতে পারে। শ্রীমঙ্গলের এই কাঁঠাল গাছ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে-প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে কৃষি ও বাগান পরিচালনা করলে সবসময় নতুন আনন্দ এবং সম্ভাবনা তৈরি হয়।

কাঁঠাল গাছের এই বিস্ময় শুধু কৃষি বা পর্যটন নয়, বরং হেমন্তের হাওয়ায় একটি সামাজিক মিলনের জায়গা তৈরি করেছে। পরিবার, বন্ধু এবং পর্যটকরা এখানে এসে একত্রিত হচ্ছেন, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলছেন। শ্রীমঙ্গলের এই হেমন্তকালীন কাঁঠাল এখন শুধু ফল নয়-এটি আনন্দ, শিক্ষা, প্রকৃতি ও অর্থনীতির এক চমৎকার মেলবন্ধন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, কাঁঠাল অন সিজনে বেশি পরিমাণ উৎপাদিত হলেও মূলত সারাবছর অথবা অসময়ে ফল দেয় এমন জাতের কাঁঠাল ও রয়েছে। অফ সিজনে কাঁঠালের উৎপাদন বাড়াতে পারলে দেশীয় ফলের চাহিদা মিটবে। অফ সিজনে ফল দেয় এমন জাতের কাঁঠাল অনেক সৌখিন লোকজন এবং অগ্রসরমান কৃষকরা সীমিত পরিসরে চাষ করছেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy