প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩৬ পিএম (ভিজিট : ৫৪৫)

X
আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলামকে সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান ও তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদ, নয়া তালুকদারসহ একাধিক সন্ত্রাসী অপহরণ শেষে বর্বর নিযাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পানি খাইতে চাইলে প্রস্রাব খাইয়ে দেয় তারা এমন অভিযোগ শিক্ষক রফিকুল ইসলামের।
সন্ত্রাসীরা তার সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে থাকা ৮০ হাজার টাকা এটিএম কার্ড দিয়ে তুলে নিয়েছে। এ ঘটনার ৭ দিন পর ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম আমতলী থানায় সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে। ঘটনা ঘটেছে গত ২১ অক্টোবর রাতে।
জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার ধুপতী গ্রামের ইউনুস আলী মীরের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম ২০১৫ সালে আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ওই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আমতলী উপজেলা যুবলীগ সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে এমন অভিযোগ শিক্ষক রফিকুল ইসলামের।
গত ২১ অক্টোবর রাতে সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ নয়া তালুকদার ও তাদের সহযোগীরা বিদ্যালয় হোস্টেল থেকে শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। ওই রাতে তারা ঘোপখালী এলাকায় নয়া মিয়ার কলা বাগানে নিয়ে বেঁধে লোহার রড দিয়ে রাতভর অমানষিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের এক পর্যায় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম পানি খাইতে চাইলে তাকে প্রস্রাব খাইয়ে দেয়। রাতভর নির্যাতন শেষে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। নির্যাতিত শিক্ষক টাকা দিতে অস্বীকার করলে পুনরায় তাকে নির্যাতন করে এমন অভিযোগ শিক্ষকের। নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি তার সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বরে ৮১ হাজার টাকা আছে বলে তাদের কাছে স্বীকার করে। ওই সময় তার সাথে থাকা এটিএম কার্ড এবং পিন নম্বর নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
সন্ত্রাসীদের অমানুষিক নির্যাতনে তার কান, মুখমন্ডল ও চোখসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে নির্যাতন শেষে ওই দিন ভোররাতে তাকে বিদ্যালয়ের হোস্টেলের সামনে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে তারা বিদ্যালয় হোস্টেলের তার কক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ ও তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল নিয়ে যায়। ওই সময় তাকে তারা শাসিয়ে যায়, এ বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে পায়রা নদীতে ফেলে দিবে। পরিবারতো দূরের কথা কেউ হদিস পাবে না। প্রাণ ভয়ে তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন। ২২ অক্টোবর শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোটর সাইকেল চরকগাছিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমতলী ও তালতলী থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। মামলার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
নির্যাতিত শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, বিদ্যালয়ে চাকুরী নেয়ার পরপরই মিজানুর রহমান আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে যুবলীগ নেতা মিজান। ২১ অক্টোবর রাতে আমাকে বিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। পরে সন্ত্রাসী নয়া তালুকদারের কলা বাগানে নিয়ে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের একপর্যায় আমি পানি খেতে চাইলে আমাকে প্রস্রাব খাইয়ে দেয়।