সারাদেশের মধ্যে নাটোরের লালপুর ইমো হ্যাকিং এর দুর্গ গড়ে ওঠায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও বিএম কলেজে মোবাইল হ্যাকিং এবং অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের সাথে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাজা শামীম মোঃ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার বলেন, নাটোর জেলার একটি সমালোচিত স্থান হচ্ছে লালপুর। লালপুরের কতিপয় তরুণ তরুণী মোবাইল হ্যাকিং এবং অনলাইন প্রতারণার যুক্ত আছে তা প্রায়ই সংবাদপত্রে এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। মোবাইল হ্যাকিং, ইমো হ্যাকিং, বিকাশ প্রতারণা, ফেসবুক হ্যাকিংসহ বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজে লালপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের তরুণরা জড়িয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত কয়েক বছরে অর্ধশতাধিক প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ১১ জন হ্যাকারকে মানুষের কাছে প্রতারণা করায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন এই রূপ কর্মকান্ডের ফলে লালপুর উপজেলা বাসীদের বদনাম হচ্ছে। তাই জেলা পুলিশ, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মোবাইল হ্যাকিং এবং অনলাইনের প্রতারণা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতনতাই লালপুরবাসীদের এই বদনাম ঘুচাতে পারে। পুলিশ সুপার এর বক্তব্যের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তুলে প্রতারণার সাথে যুক্ত না হওয়ার অঙ্গীকার করেন।
এ সময় পুলিশ সুপার অনুষ্ঠানে মোবাইল হ্যাকিং এবং অনলাইন প্রতারণা বিষয়ে একটি মনোমুগ্ধকর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। সচেতনতামূলক এই অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বড়াইগ্রাম সার্কেল শোভন চন্দ্র, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সহ ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।