প্রকাশ: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৫৫ পিএম (ভিজিট : ২৫৩)

X
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৯ নং সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের জাহান আরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক বিরল ঘটনায় দুই মাথা ও এক শরীর বিশিষ্ট শিশুর জন্ম হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সময় সিজারের মাধ্যমে শিশুটি জন্ম গ্রহণ করেন।
রোগীর নাম চৈতি মন্ডল, যার স্বামীর বাড়ি বাউফল, পটুয়াখালীতে এবং বাবার বাড়ি নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের রোঙ্গাকাঠি গ্রামে। সন্তান জন্মের সময় রোগীর স্বামী লিমন পটুয়াখালীতে অবস্থান করছিলেন।
ডাঃ নরেশ চন্দ্র বড়াল জানান, রোগী প্রথমে পটুয়াখালীতে চিকিৎসা নেন। পরে প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে তার বাবার বাড়ির নিকটবর্তী সুটিয়াকাঠির জাহান আরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রামে প্রথমে দুটি শিশুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। তবে অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায়, এটি দুই মাথা বিশিষ্ট এক শিশু।
ডাঃ নরেশ বলেন, “অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। মা ও শিশু দুজনেই তখন সুস্থ ছিলেন। তবে এমন জটিল শিশুর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় আমরা শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেই।”
তিনি আরও জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে বরিশালে নিতে পারেনি। রাত গভীর হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে স্থানীয়ভাবেই শিশুটির যত্ন নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু রাত ১টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই খবর শুনে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকে হাসপাতালে গিয়ে বিরল এই শিশুটিকে একনজর দেখতে ভিড় জমায়।
চিকিৎসকরা জানান, এই ধরনের জন্মকে কনজয়েনড টুইন (Conjoined Twin) বলা হয়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। সাধারণত এ ধরনের শিশুদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
মা চৈতি মন্ডল বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
স্থানীয়রা পরিবারটির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন।