
X
কার্তিকের বৈরী আবহাওয়ায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত দুই দিন থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি ও শীতল দমকা হাওয়া। কার্তিকের বৃষ্টি আর ঠান্ডা দমকা হাওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। বিশেষ কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা, এতে করে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও রিক্সা-ভ্যান শ্রমিকরা।
এদিকে কার্তিকের বৃষ্টিতে আর দমকা হাওয়ায় ধানক্ষেত মাটিতে শুয়ে পড়েছে, পানি জমতে শুরু হয়েছে রবি শস্যর ক্ষেতেও। কৃষকরা বলছেন এ রকম বৃষ্টিপাত হলে ধানের ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে, একই ভাবে রবি শস্যেরও ক্ষতি হতে পারে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাগণ বলছেন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ধানের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশংকা নেই।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্তিকের শীতল বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে, বিশেষ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা কেউ, এতে শহরের রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা, অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ। উপজেলা শহরের সব থেকে ব্যস্থতম নিমতলা মোড়ে কয়েকজন রিক্সাচালক যাত্রীর অপেক্ষায় বসে আছে। একই অবস্থা শহরের ব্যস্ততম এলাকা বটতলি মোড় ও ঢাকা মোড়ে। কয়েকটি চা-ষ্টল খোলা থাকলেও দোকানপাট প্রায় বন্ধ।
নিমতলা মোড়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করা পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের রিক্সাচালক বদরুল আলম বলেন, সকাল থেকে তিনি রিক্সা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষা করছেন কিন্তু শহর ফাঁকা থাকায় যাত্রী মিলছে না।
দিনমজুর আব্বাস আলী বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় দোকানপাট বন্ধ তাই তার দিনমজুরও বন্ধ হয়ে পড়েছে, আয় বন্ধ হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে তার।
রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফকির আলী বলেন, বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে শ্রমিকরা সব থেকে বিপাকে পড়ে, তাদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যায় এ কারনে পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।
উপজেলা জাতীয়তাবাদি শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাছান মোল্লা বলেন বৈরী আবহাওয়া ও দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ায় শ্রমিক দিনমজুররা বেশি বিপাকে পড়ে, এ জন্য তিনি দুর্যোগপুর্ন আবহাওয়ায় শ্রমিকদের জন্য সরকারী সাহায্য দেয়ার দাবি জানান।
এদিকে ধানচাষি মজিবর রহমান বলেন, দমকা হাওয়ায় তারসহ মাঠের ধান শুয়ে পড়েছে, এতে ধানের ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। রবিশস্য চাষি আব্দুর রহমান বলেন, রবি শস্যর জমিতে পানি জমতে শুরু করেছে আর কিছুদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে রবিশস্যর ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
তবে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান বলেন, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ধান ও রবিশস্য কোনো ক্ষতির হওয়ার আশংকা নেই।