বাঁশখালীতে বিএনপির মনোনয়ন আলোচনায় গুমফেরত আশিক

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

আওয়ামী সরকারের শাসনামলে ২০১৩ ও ২০২২ সালে দুইবার গুমের শিকার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও

2025-11-02T16:09:30+00:00
2025-11-02T16:09:30+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বাঁশখালীতে বিএনপির মনোনয়ন আলোচনায় গুমফেরত আশিক
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০৯ পিএম   (ভিজিট : ৪০৬)
X

আওয়ামী সরকারের শাসনামলে ২০১৩ ও ২০২২ সালে দুইবার গুমের শিকার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র মফিজুর রহমান আশিক ভুগছেন মেরুদণ্ডের যন্ত্রণায়। দিনদিনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। এরপরও মেরুদণ্ডের ব্যথা নিয়ে তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালীতে চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।

নির্বাচনের মাঠে নেমে ৩১ দফা ও ধানের শীষের পক্ষে লাগাতার প্রচারণা চালিয়ে ইতোমধ্যে বাঁশখালীতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। যা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছেন। এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দুই দফা গুমের শিকার আলোচিত এই সাবেক ছাত্রনেতা মফিজুর রহমান আশিক। 

জানা যায়, ২০১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ঢাকার নয়া পল্টন, মিরপুর এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্বৈরাচার বিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকায় ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর মুসলিম বাজার এলাকা থেকে কালো মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যায় সরকারের বিশেষ বাহিনী। এরপর দীর্ঘ দুই মাস সার্বক্ষণিক চোখ বাঁধা ও হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্জনকক্ষে গুম করে রেখে ইলেকট্রিক শক ও টানা ঝুলিয়ে রেখে পা থেকে মাথা পর্যন্ত থেঁতলে দেয় এবং লোমহর্ষক অমানবিক নির্যাতন চালায়। ওই সময় তাকে পিটিয়ে তাঁর ডানহাতের লিগামেন্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। কোমর ভেঙে দেয়া হয়। ফলে মেরুদণ্ডে স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষত নিয়েই অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ও বিএনপির নানা কর্মসুচীতে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

অপরদিকে ২০২২ সালের ১৪ অক্টোবর রাতে সিটিটিসি কর্তৃক জঙ্গি নাটক মঞ্চায়নের তথ্যচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ দেশি-বিদেশি মিডিয়া, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইউএস অ্যাম্বাসি এবং ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করার কারণে তাকে দ্বিতীয় বারের মত গুম করে সিটিটিসি। সেখানে তাকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করে এবং দুদিন গুম করে রাখা হয়। পরে তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর তৎপরতা ও পাশাপাশি ইউএস অ্যাম্বাসির হস্তক্ষেপের পরও তাকে মুক্তি না দিয়ে সেদিন সিটিটিসি রাষ্ট্রদ্রোহ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। ওই মামলায় দুদিন রিমান্ড শেষে জেলে পাঠানো হয় এবং দীর্ঘ নয় মাস জেল খাটার পর মুক্তি পান আশিক।

এ বিষয়ে আশিক বলেন, বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে আমি ২০১৩ ও ২০২২ সালে দুইবার গুমের শিকার হয়েছি। আয়নাঘরের মতো বীভৎস জায়গায় বন্দী ছিলাম। গুমের পর স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে হাতের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। তারা আমার হাত, কোমর ও আমার হাঁটু ভেঙে দিয়েছিল। গুম হওয়া সময়ে বিএনপি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আমার পাশে দাঁড়ানোর কারণে দ্বিতীয়বারের মতো জীবন ফিরে পেয়েছিলাম। সিটিসিসি আমাকে গুম করার পর মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। সেদিন যদি বিএনপি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আমার পাশে না দাঁড়াতো তাহলে আজ আমার কোন হদিস থাকত না। দল করতে গিয়ে এইভাবে অসংখ্যবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। ১/১১ থেকে শুরু করে হাসিনার পতন পর্যন্ত গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বহু ত্যাগ, অবদান ও ভূমিকা রাখি। দেশনায়ক তারেক রহমান ক্লিন ইমেজের ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেবেন—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালীতে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আমি প্রবল আশাবাদী।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে আশিক বলেন, জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকে আমি সমন্বয়কদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। ১৬ জুলাই রাতে আন্দোলন স্থগিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হলে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে দিয়ে ১৭ জুলাই গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা দিতে ভূমিকা রাখি। পরবর্তীতে আসিফ মাহমুদ ও হান্নান মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিই এবং ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের নিয়ে ১৮ জুলাই থেকে মিরপুরে আন্দোলন অর্গানাইজ করি। সেসময় আমি নিজে আহত হই। ২ আগস্ট ছাত্র সমন্বয়করা মুক্তি পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে সাংবাদিক মুশফিক ফজল আনসারী, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ একত্রে মিলে এক দফা ঘোষণার পরামর্শ দিই এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসের বিষয়ে তাদের সাথে চূড়ান্ত আলোচনা করি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আমি ছাত্র সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদকে ড. ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. আশেক উল্লাহ বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা গুমফেরত আশিক গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে বাঁশখালীর সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাই চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালীতে আমরা তাকেই ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাঁশখালীতে আশিক ভাইয়ের বিকল্প নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন ও ত্যাগের কারণে মফিজুর রহমান আশিক বাঁশখালীতে তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হয়েছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালীতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মফিজুর রহমান আশিককে চাই তরুণ প্রজন্ম।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy