
X
সরকারি কর্মকর্তাদের তাদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
উন্নয়ন বরাদ্দের বিভিন্ন খাতে সিলেটের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে রবিবার সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে এমন হুমকি দেন তিনি।
সিলেটের প্রতি বৈষম্য এবং সড়ক ও রেলের বেহাল দশার প্রতিবাদে সিলেটের সর্বস্তরের জনতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোববার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনীতি ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একাত্মতা জানান।
এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ভেতরে আটকা পড়েন জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের উন্নয়ন কাজ দ্রুত না হলে এখানের ডিসি এসপিকে অফিসেই ঘুমাতে হবে। আমরা তাদের ছাড়ব না। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে জানি।
তিনি বলেন, এটা লোক দেখানির আন্দোলন না। নেতা হওয়ার আন্দোলনও না। আমরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারব না, সুস্থভাবে কোথাও যাতায়াত করকে পারন নাৃ এমন কি গ্যাস, বিদ্যুৎ পানিও পাবো না ঠিকমতো এসব অনেক হয়েছে, আর হতে দেওয়া হবে না। আমাদের ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে।
আরিফ বলেন, আমরা রোহিঙ্গা নই, সিলেট রোহিঙ্গ ক্যাম্পও নয়। অনেক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেন, এই সরকারের কাছে দাবি করে কোনো লাভে নেই। সত্য কথা হচ্ছে, তারা তাদের স্বার্থের জন্য এসব কথা বলেন। এসব কথা যারা বলেন, তারা উন্নয়র সম্পর্কে কিছুই জানেনই না। তারা দেখে না যে, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনায় ঠিকই উন্নয়ন কাজ চলছে, বরাদ্দও হচ্ছে। কিন্তু সিলেটে হচ্ছে না।
এই আন্দোলন এমন থাকবে না দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, সিলেট থেকে আওয়াজ উঠলে সারা দুনিয়ায় পৌঁছায়। সারা দুনিয়ায় যেখানে সিলেটিরা আছে তারা শিগগরিই এই আন্দোলনে যুক্ত হবেন। সিলেটিরা অধিকার আদায়ের জন্য একে আর্ন্তজাতিক আন্দোলন করে তুলবেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর দরগাহ এলাকা থেকে মশালমিছিল শুরু হয়। পরে এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। ‘সিলেট আন্দোলন’–এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর কুমারপাড়া এলাকার নিজ বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন আরিফুল হক চৌধুরী। ওই সভা থেকে সিলেট অঞ্চলের ন্যায্য দাবি আদায়ে ‘সিলেট আন্দোলন’ নামে একটি সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। এতে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা যুক্ত হয়েছেন।