ঘুমধুমের ভাজাবনিয়া সীমান্তের বিপরীতে আরাকান আর্মির নতুন ঘাঁটি

রাশেদুল ইসলাম, কক্সবাজার

সারাবাংলা

বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত গুলির শব্দ, মর্টার

2025-11-02T19:20:09+00:00
2025-11-02T19:20:09+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঘুমধুমের ভাজাবনিয়া সীমান্তের বিপরীতে আরাকান আর্মির নতুন ঘাঁটি
রাশেদুল ইসলাম, কক্সবাজার
প্রকাশ: রোববার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:২০ পিএম   (ভিজিট : ১৬৮)
X

বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত গুলির শব্দ, মর্টার শেলিং এবং সংঘাতের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো মৃত্যু আতঙ্কে থাকেন। তাছাড়া মাইন বিস্ফোরণের ভয় এখন সবার মাঝেই। তাতেই সীমান্তের মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে৷ আর তাতেই আতঙ্কিত জীবন-জিবিকা।

অন্যদিকে গুলির শব্দ বেড়ে গেলেই নাফনদীর জেলেরা তড়িঘড়ি করে তাদের নৌকা পাড়ে ভিড়িয়ে রাখার কথা বলছেন। ধরে নিয়ে যাওয়ার ভয়তো লেগেই আছে। 

শঙ্কিত সীমান্তবাসী
তুমব্রু সীমান্তের কৃষক আরিফুল ইসলাম বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, প্রতি মুহুর্তেই গুলির শব্দ শুনি আমরা। রাত হলে বিজিবি ভেতরে থাকে। আমরা শুধু প্রার্থনা করি যেন কোনো বিপথগামী গুলি আমাদের খুঁজে না পায়। 

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের আরেক বাসিন্দা জিয়াউল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকদিন গুলির শব্দ শুনতে পাই। আবার গুলিও বিভিন্ন সময় আসছে। তাতেই আতঙ্ক বাড়ছে। কিভাবে কি করবো বুঝে উঠা মুশকিল। 

চেরার মাঠ এলাকার স্থানীয় এক স্কুল  শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার বিস্ফোরণের সময় আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। 

অপরদিকে, মায়ানমারে বর্তমানে সক্রিয় তিনটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘর্ষ চলছে সেখানে কোনো ভারী অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। আর তা থেকেই এই শব্দের উৎপত্তি। 

আটক করে নিয়ে যাওয়া জেলেদের কি হবে
আরাকান কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৮৮ জন বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা আটক করে পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয়। নতুন করে ধরে নেয়া শতাধিক জেলেকে এখনো ফেরত দেয়নি বিদ্রোহী আরাকান আর্মি।

পালংখালী ইউনিয়নের  ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুফিজুল বলেন, সোমবারও স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে শুনেছি, মায়ানমার শীমান্ত দিয়ে প্রচুর পরিমাণ গুলির শব্দ আর জেলেদের অপহরণের কথা৷

তিনি আরও বলেন, নাফনদীর জেলেরা এখন সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে। চর জেগে উঠায় মায়ানমার সীমান্তেঘেসে আসতে গিয়ে আরাকান আর্মির সদস্যরা এসে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। 

মায়ানমার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানায়, আরাকান আর্মি দাবি করেছে- অবৈধভাবে আরাকানের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরার অভিযোগে জেলেদের আটক করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাখাইনে লড়াই আর লড়াই
মায়ানমারের অভ্যন্তরে, বান্দরবান আর নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের কারণে প্রতিনিয়ত গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলাকে মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকান থেকে বিভক্তকারী সীমান্তটি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠেছ প্রতিনিয়ত। তারমধ্যে জান্তা বাহিনীর পাশাপাশি আরসা-আরএসওর সঙ্গেও লড়াইয়ে জড়িয়েছে মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এদের মধ্যে আরাকান আর্মি হলো রাখাইনভিত্তিক মিলিশিয়া বাহিনী। 

যারা ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ২৪ এর শেষের দিকে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় তারা। তারপর বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে কয়েকটি ঘাটিও করেছে। যা এপার থেকে স্পষ্ট। যদিও বর্তমানে জান্তা ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পাল্টা আক্রমণে স্বীকার হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে যে কারণে যুদ্ধ
রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সিনিয়র কমান্ডার মাস্টার রফিক বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে আরাকান আর্মি। রাখাইনে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে আমাদোর জাতির সকল সদস্য ভিটে মাটি ফিরে পাবে বলে আমরা তাদের পক্ষেও ছিলাম সহযোগীতাও করেছি। কিন্তু যখন রাখাইনে তারা আসলো তখন ভোল পাল্টে তারাও জান্তার মতো রোহিঙ্গা জাতির উপর নির্যাতন শুরু করলো। তাই এখন আমাদের লড়াই তাদের সঙ্গে। যতদিন রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠী তাদের অধিকার মর্যাদা নিয়ে আরাকানে ফিরবে না ততদিন আরএসওর লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কমান্ডার।

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির এক (আরসা) মুজাহিদ ফোর্সের কমান্ডার বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, বর্তমানে আমাদের যোদ্ধা সমগ্র আরাকানে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি নিজেও আছি আরাকানের পাহাড় চান৷





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy