
X
জ্ঞানজ্যোতির আলোয় আলোকিত সোনাইচন্ডী উচ্চবিদ্যালয় উচ্ছ্বাস, আনন্দ আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে নাচোল সোনাইচন্ডী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল মুখরিত। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ -৫ অর্জনকারী ৯ জন কৃতি শিক্ষার্থী এর মধ্যে ৪ জন বোর্ড বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও ২ জন শিক্ষক শিক্ষাখাতে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা প্রদান দিতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় এই তিনের সমন্বয়ে আসা অভাবনীয় সাফল্যকে উদযাপন করাই ছিল এই দিনের মূল লক্ষ্য।
রবিবার ২ নভেম্বর বিকেলে বিদ্যালয় চত্বরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এতে জিপিএ -৫ প্রাপ্ত ৯ জন কৃতি শিক্ষার্থী এর মধ্যে বোর্ড বৃত্তি প্রাপ্ত ৪ জন তাদের সকলকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষাখাতে বিশেষ অবদান রাখায় আইসিটি শিক্ষক নাজনীন খাতুন ও বিজ্ঞান বিভাগের খাদিজা খাতুনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অপরদিকে সমাজ সেবক আব্দুর রাজ্জাক দির্ঘদিন থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য প্রতি বছর টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রথম তিন জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করে থাকেন। তাঁর এই ভালো কাজের জন্য তাঁকে স্বীকৃতি স্বারক প্রদান করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এই শিক্ষার্থীরা শুধু বিদ্যালয়ের নয়, তারা আমাদের নাচোল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গর্ব। তাদের এই অর্জন প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে যেকোনো বাধাই পেরোনো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য আগামী বছরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষানুরাগী আব্দুল আওয়াল খান চৌধুরী তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়াটা জীবনের প্রথম ধাপের একটি মাইলফলক। তোমাদের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য স্থির করার সময় এসেছে। মনে রাখবে, শুধু ভালো ফলাফল করাই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করাই তোমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাচোল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গঠনমূলক বক্তব্য রাখেন এবং তাদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। তারা সমাজের প্রতি শিক্ষার্থীদের দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর ভালো ফলাফল অর্জনে শিক্ষকদের ভূয়সি প্রশংসা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খান বলেন, এই আয়োজন শুধু সংবর্ধনা নয়, বরং আগামী প্রজন্মকে আর ও বেশী স্বপ্ন দেখতে ও সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য অনুপ্রাণিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে শিক্ষানুরাগী মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
সংবর্ধনা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কৃতি শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি ও বাড়তি যত্নের কারণেই আজ আমরা এই ফল অর্জন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও আমরা যেন ভালো কিছু করে বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি, সেই প্রচেষ্টা থাকবে। সংবর্ধনা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।