রেল প্রকল্পের কালভার্টে মুখ বন্ধ, শিবচরে ১৫০ একর জমি চার বছর পানিবন্দি

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অবহেলায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচর ও পাঁচ্চর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১৫০ একর

2025-11-03T15:25:38+00:00
2025-11-03T15:25:38+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
রেল প্রকল্পের কালভার্টে মুখ বন্ধ, শিবচরে ১৫০ একর জমি চার বছর পানিবন্দি
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:২৫ পিএম   (ভিজিট : ৯০)
X

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অবহেলায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচর ও পাঁচ্চর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১৫০ একর (৬০ হেক্টর) জমি টানা চার বছর ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এতে প্রায় ১৫ শতাধিক কৃষক এখন চাষাবাদ বন্ধ করে বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রেললাইনের নিচের কালভার্টে থাকা খালের মুখ ভরাট করে দেওয়ায় এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজী নেদুখান চরকান্দি, পুরান কান্দি, শিকদার কান্দিসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে পানি জমে থাকে। বছরে দুই মৌসুমের ফসলই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে রবি মৌসুমে পানি শুকাতে দেরি হওয়ায় আলু, গম, পেঁয়াজ, রসুন ও সরিষার চাষও করা সম্ভব হচ্ছে না। ফসলি জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকায় জমিগুলো এখন বিলের মতো হয়ে গেছে। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রেললাইন নির্মাণকালে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে ছিলেন কাজ শেষে খালটি পুনরায় খনন করে পাচ্চর খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। কিন্তু কাজ সমাপ্তির পর খাল খননের আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রেললাইনের নিচে সুইচসগেট ও কালভার্ট নির্মিত হলেও খালের মুখ বন্ধই রয়ে গেছে।  এখন সামান্য বৃষ্টিতেই জমির পানি বের হতে না পেরে বসতবাড়িতেও ঢুকে পড়ে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান স্থানীয়দের বাধার কারনে কালভার্টের সঙ্গে নদীতে সংযোগ দিতে পারেননি।

 কৃষকরা জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে তাদের জমিতে কোনো ফসল ফলাতে পারছেন না। এতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।

পাঁচ্চর রেলওয়ের কালভার্টের পাশে কথা হয় কৃষক আবুল কালাম খানের সঙ্গে। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, আমার দুই একর জমিতে আগে তিন মৌসুমে ধান, পাট, সবজি সবই হতো। এখন শুধু পানি আর কাদা। চার বছর ধরে জমিতে হাল দিতে পারি না। আগে ৫০ থেকে ১০০ মণ ধান হতো, এখন উল্টো চাল কিনে খেতে হয়।

আরেক কৃষক কালাম চৌকদার বলেন, রেল লাইন হয়েছে, কিন্তু আমাদের জীবন থেমে গেছে। প্রায় ছয়-সাত বছর ধরে জমিতে পানি জমে থাকে। এখন রবি মৌসুম চলছে, তবু আমরা চাষাবাদ করতে পারছি না। এছাড়া বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে ঘরেও ঢোকে। আমরা চাই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিক। খালের মুখ খুলে দিলে কৃষিজমি বাঁচবে, আমরা টিকে থাকতে পারব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই জলাবদ্ধতার কারনে প্রায় ১৫০ একর জমিতে পানি জমে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেন না। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ.এম. ইবনে মিজান বলেন, রেললাইনের পাঁচ্চর স্থানে কালভার্টের মুখে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় এলাকাজুড়ে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা ইতোমধ্যেই স্থানটি পরিদর্শন করেছি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, এই বছরেই একটি প্রকল্প নিয়ে খাল খনন অথবা পাইপের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। 

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া মুঠোফোনে বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর কালভার্ট দিয়েছি। ওই স্থানেও একটি কালভার্ট রয়েছে। তবে স্থানীয়দের বাধার কারণে কালভার্টের মুখ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারা সেখানে কাজ করতে দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে শিবচর ইউএনও'র সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় খুব শিগগিরই কালভার্টের মুখ নদীর সঙ্গে সংযোগ করে দেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy