
X
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহি দাদনা খালটি আজ দখল ও দূষণে মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এক সময়ের প্রবাহমান খালটি এখন অনেক স্থানে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট, খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। পৌর শহরে বেশীরভাগই অবৈধ স্থাপনা নির্মানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে খালটি। অন্যদিকে যার যেমন খুশি ফেলছেন খালে ময়লা আবর্জনা।
এমন পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহি এ দাদনার খালটি নাব্যতা হারানোসহ মারাত্নক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে অন্য খালগুলোতেও। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না হলে প্রতি বছর লোকসানের ঝুঁকিতে পড়বে কৃষি চাষাবাদ। আগ্রহ হারিয়ে লোকসানের মুখে পড়বে বছরে প্রায় ৫শ কোটি টাকার মতো মৌসুমি ধান ও সবজি উৎপাদন এমনটি জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর। অন্যদিকে খাদ্যর লক্ষমাত্রা পূরণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রবাহমান পানির কারনে। কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি উপজেলাবাসীর।
জানা যায়, দাদনার খালটির উৎপত্তি হয়েছে নোয়াখালীর কবিরহাট পয়েন্টে ছোট ফেনী নদীর একটি শাখা থেকে। এরপর এটি সেনবাগ হয়ে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় প্রবেশ করে পৌরসভা ও আশপাশের এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ১৩ কিলোমিটারই দাগনভূঞা উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত।
এছাড়া উপজেলায় খনন না হওয়ায় খালগুলোর মধ্যে দাগনভূঞা বাজার থেকে দুধমুখা মীরের পোল পর্যন্ত (প্রায় ৩৫০০ মিঃ) এবং দাগনভূঞা পৌরসভা থেকে মকবুল টেক পর্যন্ত (প্রায় ২২০০ মিঃ) সংস্কার ও খাল খনন, ফেনী- চৌমুহনী খাল - দাগনভূঞা থেকে সেবার হাট, সেবারহাট থেকে নামার বাজার পর্যন্ত (প্রায় ২৬০০ মিঃ), বৈরাগীর হাট থেকে মিঠাকুয়া পোল পর্যন্ত (প্রায় ১৫০০ মিঃ) এবং নয়ানপুর ব্যাপারী বাড়ী হতে জগতপুর শেষ সীমানা পর্যন্ত (প্রায় ১৭০০ মিঃ) সংস্কার ও খাল খনন, ফেনী-চৌমুহনী খাল (শাখা)- তকতার পোল থেকে সেবার ব্রিজ দিয়া দুধমুখা সংস্কার ও খাল খনন, জহর আলীর চরা খাল- খুশিপুর থেকে নেয়াজপুর সংস্কার ও খাল খনন, সিলোনিয়া চরা খাল- আমিরগাঁও থেকে সিলোনিয়া সংস্কার ও খাল খনন করা জরুরি মনে করছেন স্থানীয়রা।
দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খাল খনন বিষয়ে ৫ টি উল্লেখযোগ্য দিক উল্লেখ করেছেন। খালগুলো খনন করা হলে কৃষক যেসব আবাদির সুবিধা পাবেন তা হলো -খরিফ-১ মৌসুমে আউশ ও গ্রীষ্মকালীন সবজি ১৫০ হেঃ, খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধান-৫২৫ হেক্টর, রবি মৌসুমে বোরো আবদ ১৭০ হেঃ এবং রবি ফসল ও রবি সবজী-১১০ হেঃ আবাদে আনয়ন করা যাবে। উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত বন্যা/অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি থেকে ফসল রক্ষা করা যাবে।
পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক বছর ধরে ওই গ্রামের জমিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে কৃষকেরা আবাদে অনাগ্রহ প্রকশ করে। আবাদে না আসার কারণে জমি গুলো পতিত থেকে যায়। সকল খাল খনন বা সংস্কার করা হলে পানির ধারন ক্ষমতা বাড়ায় আবাদি জমির পরিমান বাড়বে এবং ৪০৫ কেটি টাকা মূল্যের পন্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রধান কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান জানান, এ খালগুলো খনন বা সংস্কার না করার ফলে প্রতিবছর দাগনভূঞা উপজেলাবাসি প্রায় ৫শ কোটি টাকার কৃষি চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক। বিষয়টি নিয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় উর্ধতন মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ উপজেলাবাসি কৃষির বিপ্লব দেখতে পারবেন বলে আশা করছি।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, চলতি মাসে খাল দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের কার্যক্রম শুরু হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে খাল খনন বিষয়ে কোন প্রকল্প নেই তাই সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। এ খালগুলো সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ জানানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।