
X
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের আদেশে ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় দ্বিতীয় দিনের মতো যৌথ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানকালে শুক্রবার সকালে উপজেলার পূর্ব চর সীতা এলাকার মোহাম্মদ আলম হাওলাদারের আলম হাওলাদার ব্রিকস এবং চর মেহার এলাকার মোঃ লিটনের মোহাম্মদিয়া ব্রিকস এবং চরমেহার এলাকার আবদুল বাসেত ও ফরিদ ডুবাইয়ের একতা ব্রিকসের ভাটা, কাচা ও পাকা ইট গুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এসময় তিনটি ইটভাটার ৩০ লাখ টাকার নষ্ট করে ফেলে হয়।
আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে চর আফজলের চৌধুরী বাজার এলাকায় শ্রমিক ও স্থানীয়রা প্রশাসনের পথরোধ করে লাঠি সোটা নিয়ে বিক্ষোভ করে একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রেখে ফেরত আসতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই অজ্ঞাত ২০০ থেকে ৩০০ শ লোককে আসামি করে রামগতি থানা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যান্ত কোন গ্রেপ্তার নাই।
এর আগে বৃহস্পতিবার চর রমিজ ইউনিয়নে চর আফজল গ্রামের কারীর গোজা এলাকার তিনটি ইটভাটা সম্পূর্ণ রূপে গুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পরে ওই এলাকার অন্য ইটভাটাতে যাওয়ার পথে রামগতি-তোরাবগঞ্জ সড়কের চৌধুরী বাজারের এলাকায় কয়েক শত ইটভাটার শ্রমিক রাস্তা অবরোধ করে প্রশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে।
এসময় তারা রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে শ্রমিকরা ইটভাটা বন্ধ করা চলবে না বলে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উত্তেজিত বিক্ষোভ কারিদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেও তাদের সরাতে পারেন নি, শ্রমিকদের বাধার প্রধান করে লাঠি সোটা নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এতে প্রশাসনের লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন একপর্যায়ে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ফেরত আসতে বাধ্য হন।
উল্লেখ্য রামগতি উপজেলায় ৪৯ টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে এগুলো বন্ধে হাইকোর্ট একটি আদেশ দেন ওই আদেশের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর বন্ধের উদ্যোগ নেয়। আজ বৃহস্পতিবার (৬ নবেম্বর) সকাল থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইটভাটা গুলো বন্ধে অভিযানে নামে। অভিযানে গুড়িয়ে ধ্বংস করা ইটভাটাগুলো হচ্ছে যৌথ মালিকিয় আমানত ব্রিকস, গোলাম ছারওয়ারের মেসার্স জে এস ব্রিকস এবং আবদুল ওহাব ব্রিকস। ওই তিনটি ইটভাটার চিমনি, ভাটা এবং কাঁচা পাকা প্রায় ২৭ লাখ ইট গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসময় মেসার্স জে এস ব্রিকসের মালিক না পাওয়া গেলেও আমানত ব্রিকসের মালিককে ২ লাখ টাকা এবং আবদুল ওহাব ব্রিসকসের মালিকের ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসময় দুটি ব্রিকসের ৫ টি অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক জমির উদ্দিন, রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমজাদ হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষীপুরের উপপরিচালক হারুনুর রশিদ পাঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং এন্ড এনপ্রসেসিটি উয়িং পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন, রামগতি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন, এসময় তাদের সহায়তা করেন র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট, বিদ্যুৎ বিভাগ, এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য (আনসার) গন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমজাদ হোসেন জানান রামগতিতে মোট ৫১ টি ইটভাটা রয়েছে এরমধ্যে সরকার ব্রিজ বনলতা ব্রিক্স এর বৈধ কাগজপত্র বাকি ৪৯ টি বেটার কোন ধরনের বৈধ কাগজপত্র নেই। এ অবৈধ ইটভাটা গুলো বন্ধ করতে অভিযান এই অভিযান আগামী এক সপ্তাহ ধরে চলবে আজকের অভিযানে আমানত ব্রিকসের ২ লাখ টাকা এবং আব্দুল ওহাব ব্রিকসকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে তবে অভিযানের একপর্যায়ে কয়েকটি ইটভাটার শ্রমিক মিলে রাস্তা অবরোধ করে এবং রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওইদিনের জন্য অভিযান বন্ধ রাখা হয়।