পোল্ট্রি খামার করে দিঘলিয়ার মিজানুর রহমান এখন স্বাবলম্বী

খুলনা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান এখন এলাকায় এক সফল খামারি হিসেবে পরিচিত নাম। একসময়

2025-11-08T12:48:12+00:00
2025-11-08T12:48:12+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পোল্ট্রি খামার করে দিঘলিয়ার মিজানুর রহমান এখন স্বাবলম্বী
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৮ পিএম   (ভিজিট : ৯৯)
X

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান এখন এলাকায় এক সফল খামারি হিসেবে পরিচিত নাম। একসময় রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তখন সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। কিন্তু পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি আজ হয়েছেন এক সফল পোল্ট্রি খামারি হয়েছেন স্বাবলম্বী, হয়েছেন অন্যদের অনুপ্রেরণা।

মিজানুর রহমান জানান, দুই বছর আগে তিনি নিজের গ্রামে গড়ে তোলেন একটি ব্রয়লার মুরগির খামার। শুরুতে বন্ধু ও স্থানীয় দুই পোল্ট্রি খামার ব্যবসায়ী খালিদ খান ও বাকি খান তাকে উৎসাহ দেন। তাদের খামার ঘুরে দেখে এবং পরামর্শ নিয়েই তিনি এই উদ্যোগ নেন। মাত্র তিন শত মুরগি দিয়ে শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা।

শুরুর দিকে ঘর নির্মাণসহ খামার স্থাপনে ব্যয় হয় প্রায় দুই লাখ টাকা। প্রথম চালানে লাভ না হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। একের পর এক চালানে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, বেড়েছে খামারের পরিধিও। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ১২০০ ব্রয়লার মুরগি।

প্রতি চালানে তার ব্যয় হয় আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ টাকা। আর মুরগি বিক্রি করে আয় করেন প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি চালানে তিনি লাভ করেন প্রায় এক লাখ টাকা।

তবে পথচলায় বাধাও এসেছে। গত বছর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২০০ মুরগি। তারপরও দমে যাননি মিজানুর রহমান। বরং নতুন উদ্যমে আরও সতর্কভাবে খামার পরিচালনা করছেন তিনি।

মিজান জানান, শুরুতে অনেকেই বলেছিল খামার টিকবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করেছিলাম পরিশ্রম করলে কিছুই অসম্ভব নয়। এখন আমি মুরগি বিক্রি করে ভালো আয় করছি, সংসারে সচ্ছলতাও এসেছে।

তার খামারে বাইরের কোনো শ্রমিক নেই। স্ত্রীকে নিয়েই দুজনে সমস্ত কাজ সামলান খাবার মেশানো, মুরগির পরিচর্যা, বাজারজাতকরণ সবকিছুই করেন নিজেদের হাতে। সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে তিনি খামার পরিচালনা করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাংক ঋণ বা সরকারি সহায়তা নেননি তিনি।

মিজানুর রহমানের পরিবারে স্ত্রী ও তিন সন্তান। বড় মেয়ে বিবাহিত, মেঝো মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট ছেলে মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার  মাহমুদা সুলতানা বলেন , মিজানুর রহমান অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্যমী খামারি। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে তিনি এখন এলাকার জন্য এক দৃষ্টান্ত। তার মতো উদ্যোগী তরুণরাই স্থানীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে।

স্থানীয় বাজারে এখন মিজানের খামারের মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এলাকার অনেক তরুণ তার কাছ থেকে খামার পরিচালনা বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন। এতে তিনি গর্বিত ও আনন্দিত।

মিজানুর রহমানের স্বপ্ন, সামনে আরও বড় পরিসরে খামার সম্প্রসারণ করে একদিন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তোলা। পাশাপাশি তিনি চান, আমার মতো অন্য তরুণেরাও যেন সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে কিছু করতে এগিয়ে আসে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে তরুণ প্রজন্ম চাকরির আশায় ব্যস্ত, সেখানে মিজানুর রহমান প্রমাণ করেছেন- ইচ্ছা, পরিশ্রম ও সাহস থাকলে নিজের গ্রামেই গড়ে তোলা যায় সাফল্যের গল্প।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy