গাংনীতে মাল্টা চাষে পাঁচ যুবকের সফলতা

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

সুস্বাদু আর রোগীদের জন্য বেশ উপকারী ফল মাল্টা চাষে বেশ সাফলতা পেয়েছেন মেহেরপুর গাংনীর মিনাপাড়া গ্রামের ৫ যুবক।

2025-11-12T19:33:46+00:00
2025-11-12T19:33:46+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
গাংনীতে মাল্টা চাষে পাঁচ যুবকের সফলতা
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ৫৪)
X

সুস্বাদু আর রোগীদের জন্য বেশ উপকারী ফল মাল্টা চাষে বেশ সাফলতা পেয়েছেন মেহেরপুর গাংনীর মিনাপাড়া গ্রামের ৫ যুবক। ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মাল্টা চাষ। স্থানীয়ভাবে বাজার সৃষ্টি হওয়ায় তাদের দেখা দেখি অনেকেই মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। মাল্টা চাষে আগ্রহী করে তুলতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে সবুজ মাল্টা। বাতাসে দোল খাচ্ছে। সেই সাথে দোল খাচ্ছে বাগান মালিকদের স্বপ্ন। মাল্টা পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও সমতল ভূমিতেও রয়েছে এ ফলের ব্যাপক সম্ভাবনা। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। অন্যান্য ফল চাষে কম-বেশি ঝুঁকি থাকলেও, মালটা চাষে কোন ঝুকি ঝামেলা না থাকায় বছর চারেক আগে মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন মিনাপাড়া গ্রামের পাঁচ যুবক আওলাদ, তুফান, সুলতান, মনি ও আরিফ।

যুবক সুলতান, তুফান ও আরিফ জানান, তারা সকলেই ডিস ক্যাবল ব্যবসায়ী। এ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু একটা করার চিন্তা থেকে প্রথমে ৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন মাল্টা বাগান। স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে দেশে উৎপাদিত মাল্টার চাহিদা ও দাম পাওয়ায় পরে আরো ৩ বিঘা জমিতে বাগান করেন। প্রতি বিঘা মাল্টা বাগানে লিজসহ খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। গেল বছর ৩ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন তারা। এ বছর ৪০০ মন মাল্টা উৎপাদনের আশা করছেন তারা। প্রতিমন মাল্টা ১৭০০ টাকা দরে ইতোমধ্যে এ ব্যবসায়ির কাছে বিক্রি করেন। দুয়েক দিনের মধ্যেই গাছ থেকে মাল্টা সংগ্রহ শুরু হবে।

গাংনী উপজেলায় বর্তমানে মাল্টা বাগানের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হেক্টর। সবুজ মাল্টা চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় নতুন নতুন বাগান তৈরীতে জমি বাড়িয়েছে অনেক চাষী। অনেক বেকার যুবক চাকরীর প্রত্যাশা না করে মাল্টা বাগান করবেন বলেও জানিয়েছেন। চাষিরা জানান, মাল্টার সাথী ফসল হিসেবে কুল চাষ করা সম্ভব। কৃষি অফিস যদি চাষিদের খুব কাছাকাছি থেকে পরামর্শ দেন তাহলে অনেকেই এই লাভজনক মাল্টা বাগান করতে আগ্রহী হতো।

কুঞ্জনগরের সবজি চাষি ইব্রাহিম ও ডাবলু মিয়া জানান, মাল্টার চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় তারা চাষি সুলতানসহ ৫ যুবকের কাছে এসেছেন। চারা সংগ্রহ জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সব ধরনের পরামর্শ নিচ্ছেন। এ দুই চাষি তিন বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করবেন বলে জানান।

মাল্টার পাইকারী ব্যবসায়ি সুমন জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের জমি থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চাষীরা ১৭০০/১৭৫০ টাকা মন দরে পাইকারদের কাছে  বিক্রি করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ি ছাড়াও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের ফল ব্যবসায়িরা আসছেন মাল্টা কিনতে। স্থানীয়ভাবে বাজার সৃষ্টি হওয়ায় মাল্টা নিয়ে কোন দুশ্চিন্তা নেই।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন জানান, মাল্টা চাষ লাভজনক হওয়ায় ইতোমধ্যে আগ্রহী চাষীদেরকে প্রশিক্ষণসহ নানা ধরণের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আগামীতে জেলায় মাল্টা বাগানের পরিধি আরো বাড়বে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy