
X
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে আট ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা জুড়ে চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মনে সম্ভাবনার জোয়ার দেখা দিয়েছে। উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠে দোল খাচ্ছে পাকা ও আধা পাকা আমন ধানে। সোনালি ধানের সোনালী রঙে মাতোয়ারা কৃষক। শুরু হয়েছে ধান কাটা। কৃষকের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ। কৃষাণীরাও কাটা ধান মাড়াই এবং ঘরে তোলার কাজে পার করছে ব্যস্ত সময়। ফসল ভাল হওয়ায় তাদের পরিশ্রমে নেই বিন্দুমাত্র বিরক্তি কিংবা অনীহা।
ইতোমধ্যে আমন জাতের ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকেরা। কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার, হাশিমপুর, কাঞ্চনাবাদ, জোয়ারা, বরকল, বরমা, বৈলতলী, সাতবাড়ীয়া, ধোপাছড়ি ও দুই পৌরসভা চন্দনাইশ, দোহাজারীর নিম্মাঞ্চলের বীজতলা এবং রোপা আমন ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়।
এছাড়া ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আমন চাষিরা। এতে আমন চাষাবাদে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষক। সেই দুশ্চিন্তা কাটিয়ে আমন চাষাবাদ বাড়াতে এবছর কৃষকদের সার ও বীজ সহায়তা দেয় সরকার। আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ধান কাটা চলবে। এবার আবহওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
কৃষি অফিস জানায়, ধান কাটার পরপরই অনেকেই স্বল্প মেয়াদি আমন চাষের সেই জমিতে আগাম জাতের আলু, শীতকালীন সবজি ও অন্যান্য রবি ফসল রোপণ শুরু করেছেন। ফলে মাঠজুড়ে কৃষকের কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জোয়ারা আড়ালিয়া বিল, জোয়ারা বিল, উত্তর জোয়ারা বড়ুয়া বিল, পাঠানদন্ডী বিল, কানাইমারী, ছৈয়দাবাদ, কাঞ্চননগর, দোহাজারী, ধোপাছড়িসহ বিভিন্ন এলাকার বিলের সব জমিতেই পাকা আমনের সোনালী রঙে রঙিন ঝিলিক। অনেকেই মাঠে ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। আবার অনেকেই কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউবা গোলায় ভরতেছেন।
ছৈয়দাবাদ গ্রামের কৃষক আব্দুল মাবুদ জানান, উফসি ও হাইব্রীড জাতের ধানের চাষ করেছি। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও আমি ২৫০ থেকে ৩০০ শতক জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করেছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমন ধান অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভাল হয়েছে। এবার দ্বিগুন লাভের আশা করছেন কৃষক আব্দুল মাবুদ।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৭শত হেক্টর। সেই অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ আরিফ ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আজাদ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা কৃষকদের এ মৌসুমে সরকারের দেওয়া সার, বীজসহ অন্যান্য প্রনোদনা সাধ্যমত দিয়েছি এবং আমাদের কৃষি উপ-সহকারি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রদর্শনী না পাওয়াতে আমরা এবারে কৃষকদের কোন প্রদর্শনী দেওয়া সম্ভব হয়নি। আবহওয়া অনুকুলে থাকায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় চন্দনাইশেও আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় আমন চাষীরা অনেক খুশি।