
X
সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের রুচি ও ব্যবহার। সেই সঙ্গে বদলে গেছে গৃহস্থালির জিনিসপত্রের ধরনও। একসময় নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে টিনের তৈরি কলস, হাঁড়ি-পাতিল, থালা, বালতি, ট্রাংকসহ নানা সামগ্রীর কদর ছিল প্রচুর। এখন সেইসব জিনিসের কদর হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন এ পেশার কারিগররা।
জানা গেছে, একসময় সৈয়দপুর শহরে প্রায় ২০০টি ছোট-বড় টিনের জিনিসপত্র তৈরির কারখানা ছিল। সেখানে টিনের পাত কেটে, বাঁকিয়ে ও নক্শা করে তৈরি হতো নানা সামগ্রী। এখন সেই কারখানাগুলোর অনেকটাই বন্ধ বা অচল। অনেকে পেশা বদল করেছেন। আগে দোকানগুলোতে সকাল থেকেই ক্রেতার ভিড় লেগে থাকত। এখন দিনের পর দিন দোকান ফাঁকা পড়ে থাকে। টিনের জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি সামগ্রী যা’ দেখতে আকর্ষণীয়, হালকা এবং টেকসই।
সৈয়দপুর শহরের কারিগর হাসান আলম জানান, আগে সকালে কাজ শুরু করলে বিকেল নাগাদ সব বিক্রি হয়ে যেত। এখন সারাদিন বসে থাকি। আগের মতো কাজের চাপও নেই, আয়ও নেই।
আরেক কারিগর কাদের জানান, আগে কাজ বেশি থাকতো তখন, বেতনও ভালো পেতাম। এখন কাজ কমে গেছে তাই, আয়ও কম। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
একজন বয়সের ভারে ন্যুব্জ কারিগর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বয়স হয়েছে, অন্য কাজ করতে পারিনা। এখন যা’ টুকটাক কাজ পাই, তাতেই কোনোভাবে চলছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে টিনের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা ছিল অনেক। এখন মানুষ দালান-কোঠায় থাকে তাই, প্লাস্টিকের জিনিসই বেশি নেয়। আগে বিয়ের সময় ছোট টিনের ট্রাংক কিনতো, এখন সবাই প্লাস্টিক বা কাপড়ের ব্যাগ নেয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগে বছরে কোটি টাকার ব্যবসা হতো। এখন অনেকে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। টিনের জিনিসপত্র এখন আর আগের মতো বিক্রি হয় না।
এ ব্যপারে নীলফামারী জেলার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) কর্মকর্তা মো. নুরেল হক বলেন, আমাদের কাজ শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা। টিনশিল্পীদের আমরা প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে সহায়তা করছি। প্লাস্টিকের প্রভাবে টিনপণ্যের চাহিদা কমলেও এটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। আমরা আধুনিক নক্শা ও নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এ শিল্পটিকে আবারও চাঙ্গা করার চেষ্টা করছি।