প্রকাশ: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১২ পিএম (ভিজিট : ১১৫)

X
রাউজান নোয়াপাড়া ইউনিয়নে চৌধুরীহাট এলাকায় পুলিশ দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরো একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ভর্তি ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে। পুলিশের এই অভিযানে গ্রেফতার করেছে তিন সন্ত্রাসীকে। পুলিশের এই অভিযান চলে বুধবার সন্ধ্যার আগে।
উল্লেখ্য যে, চলতি মাসে নোয়াপাড়ায় পুলিশের এই অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারের এই অভিযান ছিল তৃতীয় বারের মত। তিনটি সফল অভিযানে ধরা পড়ে বেশ কয়েকজন চিহ্নীত সন্ত্রাসী। উদ্ধার করা হয় দেশি বিদেশি বিপুল সংখ্যক অস্ত্র-গুলি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার এবং সামগ্রিক জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে অংশ নিচ্ছে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাউজান থানাসহ জেলার অন্যান্য থানার পুলিশ দল। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে অবৈধ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী পলাতক ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীদের ধরা হচ্ছে। ধারাবাহিক অভিযানে সাফল্য অর্জিত হচ্ছে।
পুলিশের দেয়া তথ্যানুসারে গত বুধবার জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাউজান থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত আভিযানিক দল রাউজান থানাধীন ১৩নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট মুসলিম হাই স্কুলের পাশে জহির আহাম্মদ এর মুদি দোকানের ভিতর অভিযান পরিচালনা করে। এসময় দোকানদার জহির আহাম্মদকে আটক করার পর তার স্বীকারোক্তি অনুসারে দোকানের ভিতর একটি তাক থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ভর্তি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। দোকানী স্বীকোরোক্তি দিয়ে বলে অস্ত্র গুলি দোকানে রেখেছিল তার মেয়ের জামাই মোঃ সাকিবুল ইসলাম।
পরে জহিরকে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা, রাউজান থানা ও পটিয়া থানার পুলিশ দল যৌথ অভিযান চালায় পটিয়া থানার হাইদগাঁও মাইজপাড়া এলাকায়। পুলিশ দল সেখান থেকে মোঃ সাকিবুল ইসলামসহ তার ভাই রানাকে গ্রেফতার করে। জেলা পুলিশ অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছে রাউজানের নোয়াপাড়ার সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থান থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদাবাজীসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। তারা বিভিন্ন সময় কতিপয় রাজনীতিকের সাথে মোটরসাইলে শোডাউন করে আতংক সৃষ্টি করতো। এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে গত সোমবার হুমায়ুন উদ্দীন নামের অপর এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী একটি মামলার পলাতক আসামি মহিউদ্দিন একটি পুকুর পাড়ে অস্ত্র পুঁতে রাখা অবস্থা থেকে একটি একনলা বন্দুক এবং তিনটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেছেন অভিযানে গ্রেফতার হওয়া নোয়াপাড়া চৌধুরী হাট এলাকার হায়দার আলীর বাড়ীর মৃত অলি আহাম্মদের ছেলে জহির আহাম্মদ (৫২), একই ইউনিয়নের বারেক হাজীর বাড়ী মোঃ হাবিবের ছেলে মোঃ সাকিবুল ইসলাম (২২) ও মোঃ রানাকে অস্ত্র মামলায় গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।