ইট তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে হালদার চরের মাটি

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত রাউজানের শান্তি ব্রিকসে অবৈধভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে।

2025-11-25T11:10:17+00:00
2025-11-25T11:10:17+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ইট তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে হালদার চরের মাটি
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১০ এএম   (ভিজিট : ৪৫)
হালদা নদীর চর কেটে  মাটি এনে নৌকা থেকে উঠানো হচ্ছে রাউজানের শান্তি ব্রিকসে মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীর পাড়ে ইটভাটা।
X

হালদা নদীর চর কেটে মাটি এনে নৌকা থেকে উঠানো হচ্ছে রাউজানের শান্তি ব্রিকসে মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীর পাড়ে ইটভাটা।

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত রাউজানের শান্তি ব্রিকসে অবৈধভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ইট তৈরির জন্য মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে নদীর জেগে ওঠা চরের মাটি কেটে। অথচ সরকার হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করে নদীর পাড়ে ইটভাটা স্থাপন ও ইট পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে গেজেট প্রকাশ করেছে।

পরিবেশবাদী ও নদী–গবেষকরা বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে ভাটা মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ রাউজান আবুরখীল উত্তর ঢাকাখালী গ্রামে পুরাতন হালদা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় দুই যুগ ধরে এই ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। নদীর চরের মাটি কেটে ভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ইট পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী গাড়ির চাপে গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাটা মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শান্তি ব্রিকসে ইট পোড়ানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো বৈধ ছাড়পত্র নেই।

হালদা রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী বলেন, হালদা নদী দেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র। নদীটির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার কঠোর আইন করেছে এবং মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করে নদীর পাড়ে যেকোনো ইটভাটা স্থাপন ও ইট পোড়ানো নিষিদ্ধ করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি ব্রিকসে ইট পোড়ানোর ঘটনা সরাসরি প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল।

শান্তি ব্রিকসের মালিক পশ্চিম গুজরা আশালতা কলেজের শিক্ষক প্রিয়োতোষ বড়ুয়া দাবি করেন, তাদের কাছে জেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র আছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে তাকে ফোন করলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

নদীর পাড়ে ইট পোড়ানো এবং চরের মাটি কাটার বিষয়ে রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা বলেন, হালদা নদীর তীরে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকার হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করে গেজেটে জানিয়েছে, নদীর মাছ, ডলফিনসহ যেকোনো জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম করা যাবে না। নদীর পাড়ে ইটভাটা স্থাপন বা বর্জ্য ফেলাসহ নদীর বাঁক কেটে সোজা করা নিষিদ্ধ। হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ১৭টি খালে প্রজনন মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি–জুলাই) মাছ আহরণ করা যাবে না। নতুন কোনো রাবার ড্যাম বা কংক্রিট ড্যাম নির্মাণ নিষিদ্ধ। তদারকি কমিটির অনুমতি ছাড়া নতুন পানি শোধনাগার, সেচ প্রকল্প বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

এছাড়া কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট ব্রিজ পর্যন্ত অভয়াশ্রম এলাকায় সারা বছর ভারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান, বালুবাহী ও পণ্যবাহী নৌকা এবং ড্রেজার চলাচলও নিষিদ্ধ। বালুমহাল ইজারা দেওয়া যাবে না এবং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা যাবে না। নদীর অববাহিকায় তামাক চাষ ও ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy